কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলায় খেয়ার নৌকার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নয়াচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চরনেওয়াজী উচ্চ বিদ্যালয়, নয়াচর ফাযিল মাদ্রাসা ও নয়াচর নিম্নমাধ্যমিক বালক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাশ ছেড়ে নয়াচর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে তাদের দাবি জানায়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, নয়াচর বাজার থেকে বড়বেড় চর পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র শাখা নদে খেয়ার নৌকা কেন বন্ধ করা হল। এ বিষয়ে নয়াচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী রোজিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, নয়াচর টু বড়বেড় সরাসরি খেয়ার নৌকাটি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে আমগর অনেক বালুচর হাটতে হয়। সময় মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারি না। আবার বাড়ি যাওয়ার সময় ওই বালুচর পারি দিতে হয়। আগে যে স্থানে খেয়ার নৌকা চলাচল করত সেটা বন্ধ করে দেয় চেয়ারম্যান। প্রতিদিনের এ দুর্ভোগ শুধু আমার জন্যই তা কিন্তু নয়।
'নয়াচর থেকে বড়বেড় পর্যন্ত খেয়ার নৌকা চলাচল কেন বন্ধ করা হলো' এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সালাম তালুকদার জানান, পরিষদের চেয়ারম্যান নিজের স্বার্থে নয়াচর থেকে চড়াইহাটি পর্যন্ত খেয়ার নৌকা চালু করে। আর ওই খেয়ার নৌকা বন্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, নতুন করে নয়াচর থেকে চড়াইহাটি চর পর্যন্ত খেয়ার নৌকা চালু করা হয়েছে। এর অল্প কিছু উত্তরে শিকারপুর টু নয়াচর খেয়ার নৌকা আছে। বড়বেড় চরের মানুষ ইচ্ছা করলে ওই দুটি খোয়ার নৌকায় পারাপার হতে পারে। তারপরও জনগন চাইলে নয়াচর থেকে বড়বেড় খেয়ার নৌকা চালু করা হবে।
দীর্ঘদিন থেকে ব্রহ্মপুত্র শাখা নদের নয়াচর থেকে বড়বেড় পর্যান্ত খেয়ার নৌকা চালু ছিল। কিন্তু গত বছরের বিভিন্ন খেয়া ঘাটের ইজারার সময় ওই খেয়াঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে বড়বেড় চরের সাধারণ মানুষ এবং স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রায় ৩ কিলোমিটার বালুচর পায়ে হাঁটতে হয়।
বিশেষ করে বড়বেড় চরের প্রায় পাঁচ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে, যারা প্রতিদিন খেয়ার নৌকা পারাপার হয়ে ওই চারটি প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।
[b]ঢাকা, ৩ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]