[b]নিউইয়র্ক:[/b] যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু বোমা তৈরির কাজে এক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থ ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা হামলা চালানোর প্রায় ৭০ বছর পর দেশটি এ সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ৩০ বছরে নতুন প্রজন্মের এসব গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করা হবে।
পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান জেমস মার্টিন সেন্টার (সিএনএস) গত মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন সরকার আগামী ৩০ বছরে এ পর্যন্ত উৎপাদিত পরমাণু অস্ত্র সংরক্ষণ, নতুন বোমা তৈরির উপকরণ ক্রয় এবং নতুন নতুন প্রজন্মের বোমা ও ওয়ারহেড তৈরির কাজে আনুমানিক এক ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করবে।
তবে প্রতি বছর এ খাতে সমান পরিমাণ অর্থ ব্যয় করবে না আমেরিকা।
সিএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর চার থেকে ছয় বছর সময়ের মধ্যে পরমাণু অস্ত্র তৈরি ও পরমাণু স্থাপনাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কাজটি সম্পন্ন করা হবে।
ওই সময় আমেরিকার মোট সামরিক বাজেটের শতকরা তিন ভাগ খরচ করা হবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে। ১৯৮০-এর দশকে সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের শাসনামলে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে শীতল যুদ্ধের সময় পরমাণু অস্ত্র তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে মার্কিন সরকার যে পরিমাণ ব্যয় করত তার সঙ্গে আগামী ৩০ বছরের ব্যয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে আমেরিকায় এবং একমাত্র এ দেশটিই এই অস্ত্র ব্যবহার করে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে।
ফেডারেশন অব অ্যাটমিক সায়েনটিস্টের (এফএএস) হিসাব অনুযায়ী, আমেরিকার কাছে বর্তমানে চার হাজার ৬৫০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ১৩০টি স্বল্প সময়ের নোটিশে ব্যবহার করা যাবে।
সেই সঙ্গে মার্কিন সরকারের হাতে রয়েছে দুই হাজার ৭০০ অকেজো পরমাণু বোমা, যেগুলোকে এখনো পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হয়নি।
মার্কিন সরকার এমন সময় পরমাণু অস্ত্র খাতে এক ট্রিলিয়ন ডলার খরচের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যখন তার কাছে থাকা বর্তমান পরমাণু অস্ত্রগুলো দিয়ে এই পৃথিবীকে কয়েকবার ধ্বংস করে ফেলা সম্ভব। সূত্র : রয়টার্স