সম্প্রতি 'স্টেট ওনড ব্যাংকস ইন বাংলাদেশ: ফরম ক্যান্সার টু পিম্পল' শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। যার বাংলা হয় ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যাংক: ক্যান্সার থেকে ফুসকুড়ি’।
গত ১৯ তারিখে দ্য ইকোনমিস্ট পত্রিকার কাগজে ছাপা সংস্করণে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
এতে তারা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে সংস্কার করতে অসমর্থ হওয়ায় তারা ব্যাংকগুলোর অংশিদারি ক্রমে কমিয়ে ফেলার নীতিমালা গ্রহণ করেছে।
ইকোনমিস্টের ভাষায় এটি হলো, ‘আপনি যদি তাদের সংস্কার করতে না পারেন তাহলে না খাইয়ে মৃত্যুমুখে ফেলুন।’ ‘এতে আমাদের দুই বছর সময় লেগেছিল। কিন্তু লোভ আমাদের এগিয়ে নিয়ে গেছে।’ পুলিশকে বলছিলেন ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ চুরি করে ধরা পড়া ইউসুফ মুন্সি। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় ব্যাংক, সোনালি ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার তলায় সুরঙ্গ করে ১৬ কোটিরও বেশি টাকা চুরি করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মানুষে মত প্রকাশ করে ব্যাংক লুটই এখন সবচেয়ে দ্রুত অর্থ উপার্জনের উপায়। এ জন্য ব্যাংক ম্যানেজারদের বন্ধু হতে হবে।
বাংলাদেশের সরকারি ব্যাংকগুলো সাদা চোখে একটি দুর্নীতির আখড়া।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1398095951.jpg[/img]
৪০ বছর আগে ব্যাংকগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত্ব করার পর ২০১২ সালটি ছিল সবচেয়ে বেশি কেলেঙ্কারির বছর। সে বছর সোনালি ব্যাংকের একটি শাখা নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা লোন দেয় ভুয়া দলিলপত্রের মাধ্যমে। এছাড়া এর পরও ৪০০ কোটি টাকার হদিস পাওয়া যায়নি।
অপর্যাপ্ত নজরদারি ও অবিবেচনা লোন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গত ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রাক্কলন করে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অনাদায়ী হবে, যা চারটি বড় রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের মোট ঋণের ২০ ভাগ। সরকার সে মাসে প্রায় চার হাজার ১০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে সরবরাহ করে। এ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে তাদের প্রয়োজনের অর্ধেক আর বিশ্ব ব্যাংকের ধারণার এক চতুর্থাংশ। সরকার নীতিমালা কঠোর করার ও কাঠামোগত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু দেশ ও বিদেশের পর্যবেক্ষকরা এ বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।
এসব ঘটনার ফলে যা বোঝা যায় তা হলো, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর এসব কর্মকাণ্ড অর্থনীতিকে থামিয়ে দিচ্ছে না। লোন ক্রমে বাড়ছে, যদিও তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক ১৬ ভাগ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।
রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সব সময়ের জন্য ক্ষতিকর। কয়েক দশক ধরেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও আইএমএফ এ ব্যাংকগুলোকে বেসরকারিকরণ করার জন্য সরকারকে বলছে। এ জন্য কনসালটেন্সি বাবদ দাতারা বহু অর্থও ব্যয় করেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সন্দিহান যে, কোনো সরকার এ ব্যাংকগুলোর প্রভাব ও প্রতিপত্তি থেকে আলাদা হতে পারবে কি না। এ কারণে তারা এর বিকল্প সমাধান বের করেছে। এ জন্য তারা অনেকগুলো প্রাইভেট ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি থামিয়ে রেখেছে।
এ পদ্ধতিকে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর সমস্যা ‘ক্যানসার থেকে ফুসকুড়ি’তে পরিণত করা হচ্ছে। এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা জানান, এটি খুব ভালোভাবেই কাজ করছে। বর্তমানে তাদের জমার অংশ ২৫ ভাগ, যা ১৯৯২ সালে ছিল ৬০ ভাগ। অন্যদিকে ভারতে এ হার ১৯৯০ সাল থেকে ৭৫ ভাগে ধরে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রাইভেট ব্যাংকগুলো এ দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প গার্মেন্টকে বাড়তে সাহায্য করছে। গ্রাহকরা এসব ব্যাংকে গার্মেন্ট শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও স্টিল মিলের জন্য নিরাপদ লোনের আশায় লাইন দিচ্ছে বলে জানান সিটি ব্যাংকের হোলসেল ব্যাংকিংয়ের প্রধান শেখ মোহাম্মদ মারুফ।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1398095956.png[/img]
এখানে বেড়ে ওঠার অনেক সুযোগ আছে। বাণিজ্যিক লোনের জন্য ১৫ ভাগ সুদের হার এশিয়ার অন্যতম উচ্চ। ২০১২ সালে সরকার ৯টি নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দিয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ৫৬টি ব্যাংক শিল্পক্ষেত্রে নতুন মূলধন ও লোন দিচ্ছে।
তবে চিন্তার বিষয় হচ্ছে, বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে পার্থক্য সবসময় এতোটা সূক্ষ্ম নাও থাকতে পারে। সম্প্রতি সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তায় গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এটি একটি ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে বেসরকারি ব্যাংকিং লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংকগুলোর অনেকগুলোই বর্তমান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যদি রাজনীতিবিদদের খপ্পর থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত এসব ব্যাংক আবার তাদের খপ্পরে পড়তে চায় তাহলে এটা একটা লজ্জার বিষয় হয়ে উঠবে।
[b]ঢাকা, ২১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এনএস[/b]
শ্রেণীহীন
ক্যান্সার থেকে ফুসকুড়িতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যাংক: ইকোনমিস্ট
সম্প্রতি 'স্টেট ওনড ব্যাংকস ইন বাংলাদেশ: ফরম ক্যান্সার টু পিম্পল' শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। যার বাংলা হয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যাংক: ক্যান্সার থেকে ফুসকুড়ি’। গত ১৯





