রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বালুয়া-হরিণ শিং সড়ক পাড়ের চান্দপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বামীহারা জোসনা বেগম, সাজেদা, জমিলা ও জোসনা বেওয়া নামের ৪ ভিখারিণী।
এদের সাথে কথা হলে শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্বামী পরিত্যক্তা জোসনা  বেগম জানায়, পারিবারিকভাবে তারা দুস্থ। আমরা ভিখারি এটাই আমাদের জীবন এটাই আমাদের গর্ব । প্রায় ২৫ বছর আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের রমজান আলীর সাথে তার বিয়ে হয়।  কিন্তু কানে কম শোনায় স্বামী বিরক্ত হয়ে তাকে প্রায় ১০ বছর আগে তালাক দেয়। ফলে সে বাবার ঠিকানা বালুয়া- হরিণ শিং সড়ক পাড়ের চান্দপুর গ্রামে আশ্রয় নেয়। এরপর পেটের তাগিদে শুরু হয় ভিক্ষে করা।
অপর ভিখারিণী সাজেদা বেওয়া জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে তার স্বামী হোসেন আলী ৩ ছেলে শাহীন, শামীম ও আমিনকে রেখে মারা যায়। স্বামী বেঁচে থাকতে তাকে ভিক্ষে করতে হয়নি। তাদের সংসারে অভাবের মধ্যেও সুখ ছিল। ৩ ছেলের মধ্যে শাহীন বিয়ে করে শ্বশুর বাড়ি থাকে। অপর ছেলে শামীম বিয়ে করে আলাদা খায়। ওদেরও অভাব। ছোট ছেলে আমিন ঢাকায় কাজ করে। বাড়িতে এলে সে আমার খোঁজ নেয়।  
আরেক ভিখারিণী জমিলা বেওয়া জানায়, প্রায় কুড়ি বছর আগে তার স্বামী কায়েম মিয়া আনোয়ারা ও কোহিনুর নামে ২ মেয়ে রেখে মারা যায়। দিনমজুরি করে স্বামী সংসার চালাতো। অভাব অনটনের মধ্যেও স্বামী সন্তানকে নিয়ে ভালো ছিলাম। স্বামী ভুমিহীন হওয়ায় রোজগারের কোন পথ না থাকায় ভিক্ষে করা শুরু করি। ভিক্ষে করেই ২ মেয়েকে বিয়ে দেই। এখন সড়ক পাড়েই মেয়ের ঠিকানায় আছি।
বিধবা ভিখারিণী সাজেদা বলেছে, ১ ছেলে সজিব ও ১ মেয়ে রেখা খাতুনকে রেখে প্রায় ১১ বছর আগে ওই সড়ক পাড়ের ঘরেই স্বামী মমতাজ আলী মারা যায়। স্বামীর কোন জায়গা-জমি না থাকায় ছেলে-মেয়েকে বড় করতে ভিক্ষে করা শুরু তার। ভিক্ষে করেই মেয়ে রেখাকে বিয়ে দেয়াসহ ছেলে সজিবকে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়াচ্ছে। উল্লেখিত ভিখারিণীরা জানায়, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের টাকা দিতে না পারায় সরকারের দেয়া বিধবা ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফ এমনকি কর্মসৃজন কর্মসূচির কাজও তাদের কপালে জোটেনি।
[b]রংপুর,এসআই,৫ফেব্রুয়ারি,(টাইমনিউজবিডি)//এসএইচ[/b]