পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খুন হয়েছেন শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল বাদল। পূর্ব পরিচিতদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাদলকে হত্যা করা হলেও হত্যাকান্ডের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ভাড়াটে ৫ কিলার।
প্রথম দিকে এই হত্যাকান্ডকে ছিনতাইকারীদের কাজ বলে ধারণা করা হয়। তবে পাশাপাশি তদন্তের কাজও চলে। এ হত্যা মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ড সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য বেড়িয়ে আসে।
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রিপন ছাড়া এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের কারো কাছ থেকেই স্বীকারোক্তি পায়নি পুলিশ। রিপন প্রথম কোনো আসামী যে হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তি দিলেন।
গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্মকর্তারা টাইম নিউজবিডি'কে জানান, আসামীর কাছ থেকে কোনো উল্লেখ্যযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় আবার অভিযান চালানো হয়। এরই সূত্র ধরে গত রোববার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় মতিঝিল থানা এলাকার এজিবি কলোনি থেকে আসামি রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২৭ জানুয়ারি সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট তারেক মঈনুল ইসলামের আদালত গ্রেফতারকৃত রিপনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণ করেন। জবানবন্দীতে অভিযুক্ত রিপন নাথ ঘোষ নিজেকে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন। হতাকান্ডের সময় সাথে আরো চার সহযোগী ছিলেন বলেও জবানবন্দীতে উল্লেখ করে রিপন। তবে তদন্তের স্বার্থে হত্যার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকারীদের নাম প্রকাশ করতে চাইছে না পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক আবুল খায়ের মাতুব্বর টাইম নিউজবিডি'কে জানান, বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে তদন্ত কাজ চলছিল। এখনো তদন্ত কাজ চলছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। হত্যা মামলার অপর খুনিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, রিপনের ভাষ্য অনুযায়ী, কিলিং মিশিনে রিপন ছাড়াও ছিল চারজন। তারা বাদলকে হত্যার জন্যই কৌশলে ট্যাক্সিক্যাবে তুলে নিয়ে যায়।
পূর্ব বিরোধের জের ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে টার্গেট করা হয় বাদলকে। এক্ষেত্রে পূর্ব পরিচিতরাই পরিকল্পনা করলেও হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ভাড়াটে কিলার। এবার রহস্য উন্মোচিত হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করে শিগগিরই মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
রিপন জানায়, গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি ঘটনার দিন তিনি চার সহযোগীকে নিয়ে গাড়িতে করে শাহবাগে যান। এরপর নিহত কনস্টেবল বাদলের পূর্ব পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে ডেকে আনেন। পরবর্তী সময়ে গামছায় পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে বাদলকে হত্যা করে মরদেহ মতিঝিলের টিএন্ডটি কলেজের পাশে ফেলে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, পুলিশ কনস্টেবল বাদল ঢাকা মহানগর পুলিশের রাজারবাগ টেলিকম সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। গতবছর শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন-কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর বাদল সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার রাতেও সেখানে দায়িত্ব ছিল বাদলের।
তবে গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করার পর সেখান থেকে আকস্মিক নিখোঁজ হন সিসিটিভি ক্যামেরার দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল বাদল।
এরপর মধ্য রাতে মতিঝিল এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসকরা বাদলকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রেণীহীন
পরিচিতদের পরিকল্পনায় খুন করে ভাড়াটে কিলার
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খুন হয়েছেন শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল বাদল। পূর্ব পরিচিতদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাদলকে হত্যা করা হলেও হত্যাকান্ডের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ভাড়াটে ৫ কিলার।





