হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ মাস পেরিয়ে গেছে। দফায় দফায় তদন্ত কর্মকর্তাও বদলি করা হয়েছে। প্রথমে থানা পুলিশ, পরে গোয়েন্দা বিভাগ। এরপরেও তদন্ত কাজে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শেষকালে তদন্ত কাজের গুরুভার অর্পিত হয়েছে অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডির উপর। তবুও কোনো কুল-কিনারা বের করা যায়নি সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ছোট ভাই আহমেদ মিরাজ হত্যাকাণ্ডের।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় খুনের রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকলেও মিরাজ হত্যাকান্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত বাসেদ নামে সন্দেহভাজন এক আসামি ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা (সিআইডি)।
গত বছরের ৯ মার্চ রাতে রাজধানীর খিলেক্ষেতে রেললাইনের পাশ থেকে মিরাজের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর দু'দিন পর মিরাজের বড় ভাই আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল বাদী হয়ে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাবেই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে না।
নিহতের বড় ভাই আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল টাইম নিউজবিডিকে জানান, আমার ভাই আহমেদ মিরাজ হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেছে। তদন্তের কাজ হাত বদলে সিআইডির কাছে গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা যে সহযোগিতা চেয়েছেন আমরা তা দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম সিআইডি অন্তত কোনো ক্লু বের করতে পারবে। কিন্তু গত ১০ মাসেও কেন তারা মামলার কূল কিনারা বের করতে পারছে না তা সত্যিই রহস্যজনক। এখন শঙ্কায় আছি। ভাই হত্যার বিচার আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এই সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব।
গত বছরের ৯ মার্চ খুন হন আহমেদ মিরাজ। এর দু'দিন পর ১১ মার্চ বড় ভাই আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল বাদী হয়ে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ ৫ মাস পর তদন্ত কার্যক্রম থানায় ঝুলে থাকে। প্রথম দিকে পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশও অংশ নেয়। দুটি সংস্থা অনেক দিন একযোগে কাজ করলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এরপর এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডির কাছে। সেখানেও কেটে গেছে ৫ মাস। এই সময়ের মধ্যেও কোনো ক্লু করতে পারেনি সিআইডি। সর্বশেষ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পরিদর্শক রেজাউল করিম। গত সেপ্টেম্বর থেকে তিনি মামলার তদন্ত কাজ করছেন।
এ ব্যাপারে কথা হলে মিরাজ হত্যা মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক রেজাউল করিম টাইম নিউজবিডিকে জানান, মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন যাচাই করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের কোন কূল কিনারা পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত অব্যাহত আছে দাবি করে তিনি বলেন, শিগগিরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় খুনের রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে নামলেও এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন এক আসামি ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি তারা। গত বছরের ২৪ মার্চ বাসেদ উদ্দীন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মিরাজের সঙ্গে ধানমণ্ডি লেকে প্রতিদিনই হাঁটতেন বাসেদ উদ্দীন। তবে রিমান্ডে বাসেদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বাসেদ বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
[b]ঢাকা, [/b][b][b]জেইউ, [/b]২ ফেব্রুয়ারি, (টাইমনিউজবিডি) // এসএইচ [/b]
শ্রেণীহীন
আহমেদ মিরাজ হত্যাকাণ্ডের ১০ মাসেও কুল-কিনারা পায়নি পুলিশ
হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ মাস পেরিয়ে গেছে। দফায় দফায় তদন্ত কর্মকর্তাও বদলি করা হয়েছে। প্রথমে থানা পুলিশ, পরে গোয়েন্দা বিভাগ। এরপরেও তদন্ত কাজে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শেষকালে তদন্ত কাজের গুরুভার অর্পিত হয়েছে অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডির উপর। তবুও কোনো কুল-কিনারা বের করা যায়নি সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ছোট ভাই আহমেদ মিরাজ হত্যাকাণ্ডের।





