মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে জাল বিছিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামার সূত্র ধরে পরবর্তী পাঁচ বছর তাদের কর্মকাণ্ড, সম্পদ বৃদ্ধিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করা হবে।
আগের মন্ত্রী-এমপি ছাড়াও এবার যারা প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হলে সেই সময়েও নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামা মিলিয়ে দেখা হবে। কোনো অসঙ্গতি নজরে এলে দুদক আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র জানিয়েছে, এজন্য প্রয়োজনে আলাদা একটি সেল গঠন করবে দুদক। মন্ত্রী-এমপিদের অস্বাভাবিক হারে সম্পদ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এরই মধ্যে নবম জাতীয় সংসদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ মহাজোট সরকারের সাত এমপির অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। কোনো সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের ঘটনা এটাই প্রথম।
মোট ৪৮ জনের তালিকায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী-এমপি এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা প্রভাবশালী নেতাসহ অন্তত ১২ জনের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শিগগিরই শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বাকিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো হবে।
এছাড়া, চলতি দশম জাতীয় সংসদে যারা এমপি হয়েছেন, নির্বাচন কমিশনে দেয়া তাদের সম্পদ বিবরণী দুদক সংগ্রহ করছে। আগামী পাঁচ বছর এসব মন্ত্রী-এমপির সম্পদ বৃদ্ধিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে দুদক কমিশনার মোঃ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, সাত এমপির হলফনামায় দেয়া সম্পদ অনুসন্ধানের পর এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও অনেকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগের অনুসন্ধান করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও দুর্নীতি বন্ধে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই, দুদক এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না। যে কোনো পর্যায়ে দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নয়া হবে।
দুদক সূত্র জানায়, পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ছাড়াও বিভিন্নভাবে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে নবম জাতীয় সংসদের ৪৮ জন মন্ত্রী-এমপির অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করতে গত মাসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দুদক। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রথম পর্যায়ে সাত মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়।
অনুসন্ধানের আওতায় থাকা এমপিরা হলেন- সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও নবম জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হক, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও নবম জাতীয় সংসদের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এনামুল হক, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ এমএ জব্বার।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চেয়ে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ভূমি রেজিস্ট্রেশন অধিদফতরসহ বিভিন্ন দফতরে চিঠি পাঠিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে এমপিদের হলফনামাসহ তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও দুদকের চিঠি অনুযায়ী নথিপত্র সরবরাহের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। আলাদাভাবে নামে-বেনামে অনেকেই তথ্য পাঠিয়ে দুদককে সহায়তা করছে। সব তথ্য মিলিয়ে দেখছেন দুদক কর্মকর্তারা।
এদিকে, মহাজোটের আরও অন্তত ১২ জন এমপির অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান শিগগিরই শুরু হচ্ছে। এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। তবে কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া আরও ৩০ জনের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ছাড়াও বিভিন্নভাবে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। বিশ্বাসযোগ্য ও আদালতে প্রমাণযোগ্য তথ্য পেলেই অনুসন্ধান পরিচালনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামায় অনেকের সম্পদ বিবরণী অস্বাভাবিক বেড়েছে বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রার্থীদের অনেকেই নবম জাতীয় সংসদের এমপি ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রার্থীদের অনেকেরই নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেয়া হলফনামা এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেয়া হলফনামায় সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে, যা সৎ ও স্বাভাবিক উপায়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। এসব প্রতিবেদন, বিভিন্নভাবে পাওয়া অভিযোগ ও নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামার ভিত্তিতে দুদক সংশ্লিষ্টদের সম্পদের উৎস খুঁজতে এবং অবৈধ সম্পদ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তের পরবর্তী পদক্ষেপ অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি দুদকের সাতজন চৌকস কর্মকর্তাকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা হলেন- উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম, উপপরিচালক খায়রুল হুদা, আহসান আলী, সৈয়দ তাহসিনুল হক, শেখ ফাহিয়াজ আলম, নাসির উদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মাসুদুর রহমান।
কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কাজ পরিচালনার জন্য আলাদা সেল গঠনের বিষয়ে ভাবছে কমিশন। শুধু বিগত দিনের মন্ত্রী-এমপি নন, এবার যারা প্রথমবার এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন তাদের বিষয়ে সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশনে তাদের দেয়া হলফনামার সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে তাদের কর্মকা- ও সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
[b]ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি(টাইমনিইজবিডি)//জেআই[/b]
শ্রেণীহীন
মন্ত্রী-এমপিরা দুদকের জালে
মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে জাল বিছিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামার সূত্র ধরে পরবর্তী পাঁচ বছর তাদের কর্মকাণ্ড, সম্পদ বৃদ্ধিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করা হবে। আগের মন্ত্রী-এমপি ছাড়াও এবার যারা প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়েছেন,





