[b]ঢাকা:[/b] রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে প্রথমবারের মত ধাক্কা গেল বাংলাদেশ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমবাজারে মন্দা ও খোলাবাজারে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেশি হওয়ায় গত বছর এর আগের বছরের তুলনায় কমেছে বৈধ পথে আসা রেমিট্যান্স।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে প্রবাসীরা ১৩ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যদিও ২০১২ সালে পাঠিয়েছিলেন ১৪ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে গত বছরে তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।
আলী হায়দার চৌধুরী, ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সী বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ( বায়রা ) মহাসচিব টাইম নিউজকে বলেন, নতুন করে আমরা কোনো শ্রমবাজার ধরতে পারিনি। বিশ্বমন্দা ও বিভিন্ন দেশে অস্থিরতার কারণে শ্রমিকরাও খুব ভালো নেই। মালয়েশিয়ায় যতসংখ্যক শ্রমিক যাওয়ার কথা ছিল, তাও পাঠানো যায়নি। লন্ডনে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোও রেমিট্যান্স পাঠানো নিয়ে বিপাকে আছে। এসব কারণে প্রবাসী আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রবাসীরা ২০০৩ সালে পাঠান ৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০০৪ সালে ৩ দশমিক ৫৭, ২০০৫ সালে ৪ দশমিক ২৯, ২০০৬ সালে ৫ দশমিক ৪৮, ২০০৭ সালে ৬ দশমিক ৫৬, ২০০৮ সালে ৮ দশমিক ৯৮, ২০০৯ সালে ১০ দশমিক ৭২, ২০১০ সালে ১১ এবং ২০১১ সালে ১২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ’১৩) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৬৭৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৪০ কোটি ডলার। এ হিসাবে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ৬২ কোটি ডলার বা ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এছাড়া একক মাস হিসেবে গত ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ১২১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। ২০১২ সালের একই মাসের তুলনায় এ পরিমাণ কম হলেও আগের মাস তথা নভেম্বরের তুলনায় বেশি। নভেম্বরে মোট ১০৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। আর আগের বছরের ডিসেম্বরে এসেছিল প্রায় ১২৯ কোটি ডলার।
এ বিষয়ে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারম্যান ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, অভিবাসন হওয়ার এক বছর পর সাধারণত প্রবাসী আয় পাঠানো শুরু হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমিক রফতানি কমে গেছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় যতসংখ্যক শ্রমিক পাঠানোর কথা ছিল, তাও সম্ভব হয়নি। এরই প্রভাব পড়ছে রেমিট্যান্সে। সরকার এখনই এ ব্যাপারে উদ্যোগ না নিলে প্রবাসী আয়ে আরো বড় ধরনের ধাক্কা আসবে। এদিকে গত বছর যুক্তরাজ্যে বার্কলেস ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ১১টি ব্যাংকের হিসাব পরিচালনায় জটিলতা দেখা দেয়। এতে এসব ব্যাংকের রেমিট্যান্স সেবা হুমকির মুখে পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আগের চেয়ে অনেক সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। ফলে রেমিটেন্সর পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও মনে করে, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য রেমিট্যান্স প্রবাহের নিম্নগতি দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জনশক্তি রফতানির প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। তাদের হিসাবে, বিদায়ী বছরে অর্থাৎ গত বছর চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরেছে ৪১ হাজার ২২০ জন।সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ২০১১-১২ অর্থবছরের তুলনায় ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রায় ৩৭ শতাংশ জনশক্তি রফতানি কমেছে।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]