পুলিশ হেফাজতে আতংক উৎকণ্ঠার মধ্যে দীর্ঘ ৭২ঘণ্টা বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে নিরপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর মুক্ত হয়েও কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী রহস্যজনক কারণে নিজ দায়িত্বে বহাল হতে পারছেন না। এ কারণে তাদের এবং তাদের পরিবারের লোকজনের মাঝে বিরাজ করছে নানা শংকা ও আতংক।
অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থেকেও পুলিশি হয়রানি হজম করার পাশাপাশি নিয়ম রক্ষার বিভাগীয় শাস্তির খড়গ নেমে আসতে পারে-এমন আশংকায় ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
রোববার দুপুরে টাকা লুটের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ এ ব্যাংকের ব্যবস্থাপক, প্রিন্সিপাল অফিসার, যুগ্ম-জিম্মাদার (ক্যাশ), তিন জন অফিসার ক্যাশ, চার জন গার্ড ও একজন ম্যাসেঞ্জারসহ ১২জনকে একই দিন রাতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কিশোরগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার মূলহোতা সোহেল ওরফে ইউসুফ মুন্সি লুণ্ঠিত টাকাসহ আটক হওয়ার পর তাকে র্যা ব ও পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় বুধবার সন্ধ্যার পর আটকদের মধ্যে ম্যাসেঞ্জার আবু বকর সিদ্দিক ব্যতীত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে থানা থেকেই ছেড়ে দেয়া হয়। অপরাধীর সঙ্গে জানাশোনা থাকার কারণে ম্যাসেঞ্জার আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আজ এ রিমান্ড আবেদনের শুনানীর কথা রয়েছে।
অপরদিকে থানা থেকে ছাড়া পেয়ে ব্যবস্থাপকসহ ওই ১১কর্মকর্তা-কর্মচারি বৃহস্পতিবার থেকে হাজিরা খাতায় সই করে কাজে যোগদান করলেও রহস্যজনক কারণে তারা নিজ নিজ দায়িত্বে  বহাল হতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক প্রিন্সিপাল অফিসের একেএম ফজলুল হক জানান, ঘটনার পর ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাকেসহ প্রিন্সিপাল অফিস থেকে দু’জন এবং ভৈরব শাখা থেকে একজন কর্মকর্তাকে এনে দায়িত্ব দেয়া হয়। পুলিশ যাদের আটক করেছিল তাদের নিজ দায়িত্ব দিতে হলে প্রিন্সিপাল অফিসের নির্দেশনা লাগবে।
এ ব্যাপারে তিনি কোনো নির্দেশনা পাননি বলে জানান। এ সময় তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ও ময়মনসিংহ অফিস, সোনালী ব্যাংকের জিএম অফিস ও প্রিন্সিপাল অফিস পৃথক কমিটি করে  তদন্তকাজ চালাচ্ছে।
ঘটনার সময় ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বপালনকারী একেএম হুমায়ুন কবির ভ‚ঁইয়া ও প্রিন্সিপাল অফিসার ও জিম্মাদার (সাধারণ) হাসান আহমেদ মঈনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আমাদের কোনো অবহেলা, গাফিলতি কিংবা সংশ্লিষ্টতার জন্য এ ঘটনা ঘটেনি। বরং ভল্টরুমের নাজুক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই এ ধরণের অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে।
কোনো অপরাধ না করে এ ঘটনায় দীর্ঘ ৭২ঘণ্টা সময় পুলিশের হেফাজতে থেকে বিনিদ্র রাত কাটিয়ে আমরা যে শাস্তি পেয়েছি এবং আমাদের পরিবার ও সন্তানসন্ততি যে শাস্তি পেয়েছে এরপরও আমাদের জন্য আর কি শাস্তি থাকতে পারে।
নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর কাজে যোগদান করেও আমরা নিজ নিজ দায়িত্বে বহাল হতে না পারার বঞ্চনা ও অজানা আতংকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি।
এ সময় জানা গেছে, ব্যবস্থাপক একেএম হুমায়ুন কবির ভূঁইয়ার চাকরির বয়স শেষ হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্য দু’বছরের ১৬মাস কাটিয়ে দিয়েছেন। তার মাত্র আট মাস, গার্ড সুশীল চন্দ্র বণিকের সাত মাস ও আবদুল মালেকের এক বছর চাকরির বয়স রয়েছে।
[b]
ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ
[/b]