[b]ঢাকা: [/b]গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে সৃষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের প্রতিবেদন এখন থেকে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালকমণ্ডলীর সভায় পেশ করতে হবে। প্রতি বছর তা পেশ করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংক সংক্রান্ত রিভিউ কমিটির সুপারিশের ওপর এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এছাড়া আগামীতে গ্রামীণ ব্যাংক যেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যাংক বা অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের সময় জামিনদার হবে তাদের বার্ষিক হিসাবও বোর্ডে উপস্থাপনের সময় অডিট রিপোর্টে লিখিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর একটি সারসংক্ষেপ পরিচালকমণ্ডলীর সভায় পেশ করতে হবে।
গ্রামীণ ব্যাংকের রিভিউ কমিটির প্রতিবেদনের ওপর এই দুটি সিদ্ধান্ত ছাড়াও আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মতামত সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর একটি রিভিউ কমিটি করে। কমিটি ব্যাংকটির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, আর্থিক কার্যক্রম শৃঙ্খলা আনতে বেশ কয়েকটি সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করেছে। সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাই করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত চায় অর্থ মন্ত্রণালয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই প্রতিবেদনের ওপর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেয়। মূলত গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে গড়ে ওঠা সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নজরদারিতে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ মতামত দিয়েছে।
বর্তমান গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের গ্যারান্টি নিয়ে ১২টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে ওইসব প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি দিয়েছেন। রিভিউ কমিটির এই বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভিমত দেয় যে, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে পরিচালকদের গ্যারান্টির পরিবর্তে পরিচালকদের শেয়ার দ্বারা গ্যারান্টি সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে।
এছাড়া, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের দায় দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করতে বলেছে।
রিভিউ কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান প্যাকেজেস কর্পোরেশনের কাছে প্রকৃত ঋণের পাওনা হচ্ছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। কিন্তু ঋণের সুদ ১৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশে নামিয়ে আনার কারণে প্রকৃত পাওনা থেকে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা মওকুফ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক রিভিউ কমিটি এই বিষয়টিকে বলেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান প্যাকেজেস কর্পোরেশনকে আসল টাকা থেকে ৮৯ লাখ ৫৩ হাজার টাকা মওকুফ করা হয়েছে, যা গ্রামীণ ব্যাংকের আমনতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী তফসিলি ব্যাংক তাদের বিতরণকৃত ঋণের ক্ষেত্রে আসল মওকুফ করতে পারে না। শুধু সুদ মওকুফ করতে পারে। গ্রামীণ ব্যাংক অ-তফসিলি ব্যাংক হওয়ায় প্যাকেজেস কর্পোরেশনের অনুকূলে মওকুফকৃত আসল আদায়ের বিষয়ে আইনি মতামত গ্রহণ করে সরকার ব্যাংকটিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে পারে।
রিভিউ কমিটি তাদের প্রতিবেদনে আরও বলেছে, গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অথচ ড. মুহাম্মদ ইউনূস রিভিউ কমিটির কাছে বলেছেন, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। কার্যবিবরণী থেকে আরও প্রতীয়মান গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচিত মহিলা পরিচালকদের পর্ষদ সভায় কোনো ভূমিকা নেই। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সরকার কর্তৃক তিনজন সদস্য ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমস্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত। সরকার মনোনীত সদস্যদের নিয়ে একটি নির্বাহী কমিটি গঠন করে। প্রতীয়মান হয় যে, শেয়ার ধারকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত মহিলা পরিচালকগণ কেবলমাত্র সভায় উপস্থিত থাকেন। গ্রামীণ ব্যাংকের নীতি ও লক্ষ্যের সঙ্গে সহযোগী অনেক প্রতিষ্ঠানের মিল নেই। বিষয়টি তাদের আলোচনা থেকে বোঝা যায়।
রিভিউ কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এটি যথেষ্ট পরিষ্কার গ্রামীণ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল পৃথক করে গ্রামীণ ফান্ড ও গ্রামীণ কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পরবর্তীতে উক্ত প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আরও প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়। উল্লেখ্য, গ্রামাীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৮৩ অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃক এসব প্রতিষ্ঠান গঠন ও অর্থায়ন গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষমতাবহির্ভূত। রিভিউ কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এর ১৪(৪) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংকের পূর্ণকালীন নির্বাহী।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংক পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া ২০০৩ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ পরিবারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান, পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বব পর্যন্ত ২০ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নেই।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
শ্রেণীহীন
নজরদারিতে আসছে গ্রামীণ ব্যাংকের ৫৪ সহযোগী প্রতিষ্ঠান
ঢাকা: গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে সৃষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের প্রতিবেদন এখন থেকে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালকমণ্ডলীর সভায় পেশ করতে হবে। প্রতি বছর তা পেশ করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংক সংক্রান্ত রিভিউ কমিটির সুপারিশের ওপর এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।





