সুন্দরী স্ত্রীকে ব্যবহার করে ধনাঢ্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে রাজধানীর মেসার্স তানহা এন্টার প্রাইজের মালিকের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দিন ধরে শেয়ারে ব্যবসার নামে কোম্পানীর মালিক মাহবুবার রহমান ইমন এ প্রতারণা করে আসছেন।
সাতক্ষীরা জেলার শিয়ালডাঙ্গা এলাকার যুবক মাহবুবার রহমান  ইমন তার সুন্দরী স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা তাপসীকে এ ব্যবসায় ব্যবহার করে আসছেন।
তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন দেশের সরলমনা অনেক ব্যবসায়ী। সুকৌশলী এই দম্পতি জালিয়াতি এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দামি গাড়িসহ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়েছেন।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397574256.jpg[/img]
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ইমন- তাপসী রাজধানীর আদাবর থানার শেখের টেকে ১২ নং রোডের ৩২ নং বাসায় ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট অভিযোগে পুলিশ প্রশাসন ও আদালতে একাধিক মামলা  ও অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িরা।
আরও জানা যায়, এই প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন মেসার্স কান্তা এন্টারপ্রাইজের মালিক ও বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানার কুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এসএম কামরুজ্জামান। রাজধানীর আদাবর থানার মুনসুরাবাদ আবাসিক এলাকায় ৭নং রোডের ৮৭ নং বড়িতে ভাড়া থাকেন এই নতুন ব্যবসায়ি কামারুজ্জামান।
ইমন-তাপসী চক্র ব্যবসায়িক পার্টনার বানানোর প্রতিশ্রতি দিয়ে এক বছরের ব্যবধানে কামারুজ্জমানের কাছ  থেকে গত ২১/৫ ১৩ তারিখে প্রথমে এক চেকের মাধ্যমে ২১ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেয়।
পরে ব্যবসায়ের লাভ সংক্রান্ত বিষয়ে হিসাব জানতে তারা কামরুজ্জামানের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান। কিন্তু  ইমন-তাপসী ব্যবসায়ের কোনো হিসাব না দিয়ে তার কাছ থেকে কৌশলে আরও একাধিক ব্যাংকের বেশ কয়েকটি ব্লাঙ্ক চেকের পাতা নিয়ে নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আদাবর থানায় জিডি করেন। যার নম্বর  নং-৯১৬।
এরপর গত ২২ ডিসেম্বর বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় আদাবর থানা এলাকায় ১১ নং  শেখের টেক রাস্তায় কামারুজ্জানকে নামিয়ে দিয়ে তার  ২১ লাখ টাকা দামি একটি গাড়ি (ঢাকা -মেট্রো-গ-৩১-৭২৩৩) ছিনিয়ে নেয়। একইসঙ্গে তারা বিআরটিএ’র সংশ্লিষ্ট  কিছু পত্রে জোর করে সই-স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397574362.jpg[/img]
ওই ঘটনায় দিনই আদাবর থানায় ১১৩১ নম্বর জিডি দায়ের করেন। গত  ৪ মার্চ গাড়িটি উদ্ধারের জন্য তিনি ঢাকা সিএমএম আদালতে ৪০/১৪ নম্বর মামলা দায়ের করেন। আদালত গত ৩ এপ্রিল গাড়িটি উদ্ধারের জন্য আদেশ নং-১৫৪/১৪ মূলে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনো পুলিশ প্রশাসন ওই গাড়িটি উদ্ধার করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন কামরুজ্জামান।
এদিকে  ইমন-তাপসীর চক্রর প্রতরণা ও জালিয়াতির শিকার হয়ে পথে বসেছেন রাজধানীর রমনা থানার  ৬৩/বি সিদ্ধেশ্বরী রোডের র্যাং স গার্ডেন প্যালেসের এ/১ ফ্ল্যাটের বাসিন্দা হাবিবা আক্তার ও তার স্বামী হেলাল উদ্দিন।
এই দম্পত্তি রাজধানীর নিউমার্কেটের আর ১৮/সি গাউছুল আজম মাকেটের দ্বিতীয় তলার ইরামনি এন্টারপ্রাইজের মালিক।
এই ব্যবসায়িদের সঙ্গেও বড় ধরনের প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতি নেয় ইমন-তাপসী চক্র ।
২০১২ সালে ব্যবসায়ি হাবিবা আক্তার এবং তার স্বামী হেলাল উদ্দিন পূর্ব নির্ধারিত ভারতে ব্যবসায়িক সফরে যান। এর আগে তারা ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত ক্গজ পত্র  তৈরি করে অফিসে রখে যান। কাগজপত্রগুলোর মধ্যে ছিল, বিভিন্ন ব্যংকের একাধিক চেক, এলসি কাগজপত্র এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা মালামাল ক্লিয়ারিং- ফরোয়াডিং সংক্রান্ত অনুমতির কাগজ পত্র।
ব্যবসায়ী দম্পত্তি ভারতে থাকা অবস্থায় তাদের ব্যবসায়িক পার্টনার ইমন-তাপসী বড় ধরনের জালিয়াতি এবং প্রতারণার আশ্রয়  নয়। তারা  ব্যাংকের কয়েটি স্বাক্ষরকৃত চেকের পাতায় ইচ্ছামতো টাকার অংক বসিয়ে নিজস্ব  অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে ডিজনার করায়। একইসাথে তারা ওই ব্যবসায়িক দম্পত্তিকে উল্টা চেক ডিজনারের মামলায় জড়ানো টার্গেট নেয়।
এই বিষয়টি টের পেয়ে হাবিবা ও হেলাল উদ্দিন পুলিশের সহযোগিতা নেয়।   তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ২২ জানুয়ারি পুলিশ মতিঝিল এলাকায় একটি ব্যাংকের ভেতর থেকে ওই প্রতারক মাহবুবার রহামান ইমনকে গ্রফতার করে। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে এই চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের জালিয়াতি এবং প্রতারণার পুরো বিষয়টি বেরিয়ে আসে। পুলিশ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। যা এখন বিচারের অপেক্ষমান।
এই চক্রের প্রতারণার শিকার আরেক ব্যবসায়ি কাজল এন্টার প্রাইজের মালিক মো. বিল্লাল হোসেন। তার কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এই ইমন-তাপসী চক্র।  শুধু তাই নয়, উল্টা কাজলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় থানা পুলিশের কাছে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানী করছে।
এখনো এই প্রতারক ও জালিয়াত চক্র নতুন নতুন ব্যবসায়িক পার্টনার বানানোর নামে একের পর এক প্রতারণা করেই চলছে।
এ বিষয়ে আদাবর থানার অফিসার ইন চার্জ গাজী রুহুল ইমাম টাইমনিউজবিডিকে জানান, গাড়িটি এখনও উদ্ধার হয়নি। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশও কাজ করছে।
[b]ঢাকা, একে, ১৫ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]