সীমানা পুনঃনির্ধারণের জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে আপাতত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) নির্বাচন হচ্ছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে বিশেজ্ঞদের মতে এভাবে দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসক নিয়োগ সংবিধান পরিপন্থি।
তারা মনে করেন, ডিসিসির নির্বাচন না হওয়ার পিছনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। এদিকে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া না থাকায় জনগণ কাঙ্খিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও মত প্রকাশ করেন তারা।
এব্যাপারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী প্রধান ড এফতেখারুজ্জামান টাইম নিউজবিডিকে বলেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন না হওয়ায় জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, প্রশাসনিকভাবে সেবা প্রদান করায় গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। জনগণ জবাবদিহিতামূলক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাকে আকড়ে রেখে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বাস্তবায়নের ঘোষনা সরকারের ফাঁকা বুলি ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড শাহদীন মালিক বলেন, নির্বাচন কমিশন যে অজুহাতে ডিসিসির নির্বাচন করছে না তা যৌক্তিক নয়। কারণ আইন অনুযায়ী শতকরা ৭৫ ভাগ ওয়ার্ডে নির্বাচন করার পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলে কমিশন নির্বাচন করতে পারে।
তিনি বলেন, প্রশাসক নিয়োগ সাময়িক সমাধান হতে পারে কিন্তু তা কখনো দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান হতে পারে না। এভাবে প্রায় দুই বছর প্রশাসক দিয়ে জনসেবা করা হলে তা হবে 'স্প্রীট অব ল' এর পরিপন্থি।
তাছাড়া প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ডিসিসি পরিচালনা করা হলে তা সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ ধারার সাথে সাংঘর্ষিক বলে মত দেন এ আইন বিশেষজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, এভাবে দীর্ঘদিন গনতান্ত্রিক ধারা লঙ্ঘিত হওয়ায় ঢাকা সিটি বসবাসের জন্য বিশ্বের সর্ব নিম্ন অনুপযোগী একটি শহরে পরিনত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন,আমরা যেহেতু আইন অনুযায়ী কাজ করি তাই আদালত কোথাও নির্বাচন করতে বাধা দিলে আমরা শুনি।
সীমানা জটিলতা নিরসন করে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা আছে। দুই সিটিতে এখনো সীমানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। ফলে নিকটতম সময়ে ঢাকা সিটিতে নির্বাচনের আশা নেই।
দায়িত্বপ্রাপ্ত সিইসি বলেন,নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সরকার আইন করে নির্বাচন কমিশনকে যখন যে দায়িত্ব পালন করতে বলে তখন কমিশন সে দায়িত্ব পালন করে। নির্বাচন কমিশন কারো আদেশ-নির্দেশে নির্বাচন করে না। আইন অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়।
সর্বশেষ ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ডিসিসি নির্বাচন হয়েছিল। এ হিসাবে ডিসিসি প্রায় ১২ বছর ধরে নির্বাচনবিহীন রয়েছে। ওই নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠকের তারিখ ধরে ২০০৭ সালের ১৪ মে এ সিটি করপোরেশন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়।
মেয়াদ পার হওয়ার সাত বছর পার হয়ে গেলেও এখনো নির্বাচন হয়নি। এদিকে ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণে দুই ভাগ করা হয়। একই বছরের ৯ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও আইনি জটিলতায় তা স্থগিত হয়ে যায়।
তফসিল অনুযায়ী,দুই সিটি করপোরেশনে ওই বছরের ২৪ মে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সে সময় প্রায় দুই ডজন প্রার্থী মেয়র পদে এবং কয়েকশ প্রার্থী কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন।
অন্যদিকে,গত বছরের মে মাসে নির্বাচনের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে গেলে নতুন করে তফসিল ঘোষণার উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। তবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একটি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় সীমানা-জটিলতায় নির্বাচন আবারও ঝুলে যায়।
ঢাকা, এএ, ৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি





