সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জাপানের মতো উন্নত, নিয়মতান্ত্রিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রতিটি আচরণই দেশের ভাবমূর্তির প্রতিনিধিত্ব করে। তাই প্রবাসীদের সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তা ইসলামের সৌন্দর্য ও বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিচয় তুলে ধরে।

তিনি আরও বলেন, “প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স প্রেরণকারী নন, বরং তারা দেশের একেকজন অনানুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূত।” প্রবাসে অর্জিত জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও নৈতিকভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংগঠনভিত্তিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভাজন ও মতপার্থক্যের কারণে মুসলিম উম্মাহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তুলতে হবে। তিনি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

অন্য বিশেষ অতিথি মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান দারসুল কুরআনের আলোচনায় বলেন, একজন মুমিনের পরিচয় তার নৈতিকতা, সত্যের প্রতি অবিচলতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধে প্রতিফলিত হয়। তিনি বলেন, ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধকতা এলেও তা অতিক্রম করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

সম্মেলনে সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে হাফেজ সাবের আহমদ পুনরায় কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। পাশাপাশি পরামর্শ সভার নতুন সদস্যরাও নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ করেন। নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে অংশগ্রহণকারীরা সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নবনির্বাচিত সভাপতি বলেন, সংগঠনের কার্যক্রমকে শুধু সাংগঠনিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করা হবে। প্রবাসীদের সংকটে পাশে দাঁড়ানো, আইনি ও সামাজিক সহায়তা প্রদান, শিক্ষা ও নৈতিক উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, যেখানে ১৩ জন নতুন সদস্য শপথ নিয়ে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। আয়োজকরা মনে করছেন, নতুন এই সদস্যরা ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন গতি ও উদ্যম যোগ করবে।

এছাড়া অধিবেশনে সংগঠনের বার্ষিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রবাসীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা, ভাষা প্রশিক্ষণ, দাওয়াহ কার্যক্রম, সামাজিক সেবা ও কমিউনিটি উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সম্মেলনের শেষপর্বে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সংহতি বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

এস