বৈঠকে নেতারা উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের গণরায়কে উপেক্ষা করে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন চায়| অথচ জনগণ বিদ্যমান সংবিধানের এমন সংস্কার চায়, যার দ্বারা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনপ্রতিষ্ঠার সকল পথ রুদ্ধ হয়ে আসবে। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে এমন কিছু প্রস্তাবনা রয়েছে যাতে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে| সেসব প্রস্তাবনা বর্তমান প্রক্রিয়ায় সংশোধনের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হলে তা টেকসই হবে না। তাই জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন অত্যন্ত প্রয়োজন।

খেলাফত মজলিস নেতারা আরো বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের থাকবে মৌলিক শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের গাঠনিক ক্ষমতা| সেই ক্ষমতা ইতিমধ্যে গণভোটে ’হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় প্রদানের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ দিয়ে দিয়েছে| আমরা সরকারকে জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি জুলাই ও শাপলা গণহত্যা সহ ফ্যাসিবাদী বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

বৈঠকে নেতারা দিল্লী সহ ভারজুড়ে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নরেন্দ্র মোদী সরকারের নিপীড়ন ও ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি সংখ্যালঘু মুসলমানদের জীবন, সম্পদ ও মুসলিম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংসে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব বন্ধে ভারত সরকারের নির্লিপ্ততার তীব্র সমালোচনা করা হয়।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএম