পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে আফতাব মজুমদার জয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও থানাধীন ‘সুইট প্যালেস’ হোটেলের ২০৮ নম্বর কক্ষে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জয় বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, অভিযুক্ত আগে থেকেই বিবাহিত।
এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, মামলা হওয়ার পর র্যাব-৭ অভিযান চালিয়ে আফতাব মজুমদার জয়কে আটক করে। পরে বুধবার রাতে তাকে চান্দগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে মামলার আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আফতাব মজুমদার জয়কে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির দপ্তর সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) রিদুয়ান হৃদয় সাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কার আদেশে বলা হয়, এনসিপির নীতি, আদর্শ ও দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রত্যেক সদস্যের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু আফতাব মজুমদারের বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির জরুরি সিদ্ধান্ত এবং মহানগরের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের নির্দেশক্রমে তাকে মহানগর কমিটির সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, ২৩ জুলাই থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং এখন থেকে দলের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত বা পরিচয়ের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
এমএম