মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চকবাজার-বংশাল জোনের উদ্যোগে ১৯ জুলাই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জাতীয় সমাবেশের প্রচারাভিযান শেষে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, বিগত ১৫ বছরে খুনি হাসিনার সরকার বাংলাদেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এ দেশের মানুষকে ভোটের অধিকার ও ভাতের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। পুরো বাংলাদেশকে তারা কারাগারে পরিণত করেছিল। গুম-খুনের রাজ্য তৈরি করেছিল। অনেক রক্ত, ত্যাগ ও জীবনের বিনিময়ে দীর্ঘ এক মাস লড়াই করে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। নতুন করে জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছি। আমরা চেয়েছিলাম, পুরাতন রাজনীতির ধারা ছেড়ে সব দল নতুন ধারার রাজনীতি করবে, দেশ গড়বে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজির হাত বদলেছে; সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্বের দায়িত্ব একটি দল গ্রহণ করেছে। তাদের নেতাকর্মীরা মানুষকে পাথর দিয়ে থেঁতলে-থেঁতলে হত্যা করে—যে দৃশ্য পৃথিবীর কোনো মানুষ এক সেকেন্ডও দেখার পর সহ্য করতে পারবে না। জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, খুনি, ধর্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় একটি দল জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিছিল শুরু করেছে। জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে, ষড়যন্ত্র করছে। কোনো অপপ্রচার কিংবা ষড়যন্ত্রে জামায়াতে ইসলামীর অগ্রযাত্রা থেমে যাবে না। কারণ জামায়াতে ইসলামীতে কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, দখলদার, টেন্ডারবাজ, খুনি, ধর্ষক নেই। জামায়াতে ইসলামীতে আছে সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শিক, নৈতিক ও মানবিক দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব।

চকবাজার-বংশাল জোনের সহকারী পরিচালক এস এম আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং বংশাল দক্ষিণ থানা আমীর মাহাবুবুল আলম ভূঁইয়ার পরিচালনায় পথসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কামরাঙ্গীরচর জোনের পরিচালক, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুর রহমান।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চকবাজার দক্ষিণ থানা আমীর মো. আনিছুর রহমান, কোতয়ালী থানা আমীর মো. মতিউর রহমান, চকবাজার উত্তর থানা আমীর মাওলানা মাহফুজুর রহমান, চকবাজার পশ্চিম থানা আমীর মো. আবুল হোসেন রাজন, চকবাজার পূর্ব থানা আমীর মো. রফিকুল ইসলাম সিকদার, বংশাল উত্তর থানা আমীর মাওলানা বিলাল হুসাইন, বংশাল পূর্ব থানা আমীর মাওলানা তাজুল ইসলামসহ জোনের সকল থানা সেক্রেটারিবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
চকবাজার শাহী মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সদরঘাটে পথসভার মাধ্যমে প্রচারাভিযান শেষ হয়।
এনএইচ