ঢাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকা সমাবেশে নেতাকর্মীদের আনা-নেয়ার জন্য তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে বাংলাদেশ দলটি। ট্রেনগুলো একবার করে চলবে রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ-ঢাকা-সিরাজগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ-ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে। শনিবার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহী জেলা ও মহানগর থেকে অন্তত ২০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় জামায়াতের সমাবেশে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর আবেদনের প্রেক্ষিতে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো: আব্দুল আওয়াল, ডেপুটি চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট-১ আরফিন নাহার ও রেলওয়ের উপপরিচালক (টিটি) মো: খায়রুল কবির পৃথক চিঠিতে ট্রেন বরাদ্দ দিয়েছেন।
এসব চিঠিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর অফিস সেক্রেটারির আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৮ জুলাই দিবাগত রাতে রাজশাহী থেকে ঢাকায় এবং ১৯ জুলাই রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার জন্য একটি বিশেষ ট্রেন পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এই ট্রেন মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের রেক ব্যবহার করে পরিচালিত হবে। ট্রেনটি ১৮ জুলাই দিবাগত রাত ১টায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে সকাল ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। সমাবেশ শেষে ১৯ জুলাই রাত ৮টায় ঢাকা থেকে ছাড়বে এবং রাত ১টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি আবার রাজশাহী পৌঁছাবে। পথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, হরিয়ান ও সরদহ রোড স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, সিরাজগঞ্জ-ঢাকা-সিরাজগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ৭৭৫/৭৭৬ নম্বর ট্রেনটি শনিবার সকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জ বাজার থেকে ছাড়বে এবং সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। সমাবেশ শেষে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে সিরাজগঞ্জ বাজারে পৌঁছাবে ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ-ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটেও এক জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিশেষ এই তিন ট্রেন অগ্রিম ভাড়া, সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধসাপেক্ষে চলবে।
দেশ ও জাতিসত্তাবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও জামায়াতের সাত দফা বাস্তবায়ন করতে আগামী ১৯ জুলাইয়ের জাতীয় সমাবেশ সর্বাত্মকভাবে সফল এবং স্মরণকালের বৃহৎ সমাবেশে পরিণত করার জন্য ময়দানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
তিনি গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোহাম্মদপুর জোন জামায়াত আয়োজিত ১৯ জুলাই জাতীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন উপলক্ষে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় মহানগরী সেক্রেটারির সাথে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পরিচালক ডা: শফিয়ার রহমান, জামায়াত নেতা আবদুল হান্নান ও মশিউর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষ এখন বিকল্প শক্তির সন্ধান করছে। তারা এখন জামায়াতে ইসলামীকেই বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা দেশ ও জাতির যেকোনো ক্রান্তিকালে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমাদের কর্মীদের সব সময় নৈতিক শিক্ষা দিয়ে থাকি। দায়িত্ব ও নেতৃত্বদানের উপযোগী করে গড়ে তুলি। সততা, আমানতদারিতা ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করি। তিনি দেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন প্রসঙ্গে বলেন, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই দেশে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। এ জন্য পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হওয়া দরকার। বিশ্বের ৯২টি দেশের এ পদ্ধতির নির্বাচন চালু আছে। এ পদ্ধতির নির্বাচন চালু হলে দেশে হুন্ডা, গুণ্ডা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও কেন্দ্র দখল বন্ধ হবে। কিন্তু একটি পক্ষ তা চায় না। কারণ তারা মনোনয়নবাণিজ্যে অভ্যস্ত। তাই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে করতে পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
এনএইচ