শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনতার উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, মান অভিমান ভুলে, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নতুন বাংলাদেশের পক্ষে ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে প্রথমে গণভোটের ব্যালটে হ্যাঁ ভোটে সিল দেবেন। যদি হ্যাঁ বিজয়ী না হয় তাহলে আপনার পরবর্তী ভোটের দাম থাকবে না। মনে রাখবেন, হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি।

Jamat2

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে বাংলাদেশে বস্তাপচা রাজনীতিতে বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেই রাজনীতিকে বিদায় জানাতে আমরা নতুন বাংলাদেশের কথা বলছি।

শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত বিজয়ী হলে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কে কোন ধর্মের অনুসারী তা দেখা হবে না। বরং আসমানের নিচে এ ভূখণ্ডের সকল মানুষের প্রতি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

জামায়াত আমির বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করুন। মা বোনদের সম্মান দিন। মায়েদের একটি দীর্ঘশ্বাস আপনাকে ধ্বংস করে দেবে। মায়েদের দৃষ্টি এখন পরিবর্তনের দিকে। নতুন বাংলাদেশের দিকে। আমরা মায়েদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কোনো মায়ের বেইজ্জতি আমরা সহ্য করবো না। মায়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আবু সাঈদ মুগ্ধসহ হাজার হাজার বীর মায়েরা জন্ম দিয়েছে। এ ধরনের বীর জন্ম দিতে মায়েদের উৎসাহিত করতে হবে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিতে চাই না। আমরা যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। পাঁচ বছরের মধ্যেই যুবকরা বলবে; আমিই বাংলাদেশ; আমি বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক।

Jamat3

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বিজয়ী হলে কওমি মাদরাসা থেকে যারা খারিজ হয়েছে তাদেরকে নাকি মসজিদ মাদরাসা থেকে বের করে দেওয়া হবে। এটি একটি ডাহা মিথ্যাচার। কওমি মাদরাসা আমাদের কলিজা, এ দেশে ইসলামি শিক্ষা এখন মূলত তারাই ধরে রেখেছে। আমরা এ বিষয়টি কাজে প্রমাণ করতে চাই।

ফেনীর উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, শুধু ফেনী নয়; দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। ৩৩ জেলায় মেডিকেল কলেজ রয়েছে। বাকি ৩১টি জেলায় আমরা তা স্থাপন করবো। প্রত্যেকটি জেলা হেডকোয়াটারে বিশেষায়িত হাসপাতাল করার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। সেই হাসপাতালে সার্ভিস দেওয়ার লোক তৈরির জন্যই মেডিকেল কলেজ প্রয়োজন। আমাদেরকে দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ দিলে ফেনী তার ন্যায্য পাওনা পেয়ে গর্বিত হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ফেনীর একটি বিশেষ অবদান রয়েছে।

ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি এটিএম মাছুম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ফেনী-২ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মন্জু, ফেনী-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, ফেনী-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডাক্তার ফখরুদ্দিন মানিক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, একেএম সামছুদ্দিন।

ফেনী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহীমের সঞ্চালনায় জনসভায় জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

এনএইচ