বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-৫ আসনের উদ্যোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত গণসংযোগ পক্ষের দাওয়াতী অভিযান পূর্বক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষুধা, দারিদ্র, বেকারত্বমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। জামায়াতে ইসলামী ৪ দফা ভিত্তিতে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জামায়াতে ইসলামী সমাজ সেবামূলক কার্যক্রম দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে পরিচালনা করে থাকে। কারণ ইসলামী জীবন বিধানে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই। ইসলামের বিধান সবার জন্য সমান। চন্দ্র, সূর্য, আকাশ-জমিন যেভাবে সকলের জন্য সমান ইসলামের বিধানও সবার জন্য সমান।
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নিঃসন্দেহে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানব রচিত মতবাদে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের সংখ্যালঘু বানানো হলেও ইসলামের বিধানে কেউ সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্টতার বিচারে কম-বেশি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের কাছে সকল নাগরিক সমান সুযোগ লাভ করবে। ভিন্নধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ইসলামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের সেই দায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে প্রতিটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে যুবসমাজকে অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি হিসেবে তৈরি করা হবে। পরিবারের বোঝা নয়, যুবসমাজ পরিবারের গর্বের কারণ হবে। জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রমে দেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষ বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আস্থা রাখছে। জনঘন আগামীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। এজন্য একটি দলের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামী ৩০ আসন চেয়েছে মন্তব্য করে তাদের দলের মহাসচিব মিথ্যাচার করেছেন। শুধু মিথ্যাচারই করেননি, তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। এজন্য জামায়াতে ইসলামী বারবার দাবি জানিয়ে আসছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহনমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দেওয়া হলে কেন্দ্র দখল, ভোট চুরি, অস্ত্রের মহড়া, কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ হয়ে যাবে। জনগণের প্রতিটি ভোট মূল্যায়িত হবে। পিআর পদ্ধতি একটি উত্তম এবং বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে জনগণ মনে করলেও তারাই পিআর পদ্ধতিতে ভয় পায়, যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় বসতে চায়। জনগণের প্রতি আস্থা আর বিশ্বাস থাকলে পিআর পদ্ধতি মেনে নিতে তিনি সব দলের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, ঢাকা-৫ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরা এক আল্লাহ ব্যতীত কাউকে ভয় পায় না, পাবে না। যারা আল্লাহকে ভয় করে তারা দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করতে পারে না, কাউকে করতে দিবে না। ঢাকা-৫ সংসদীয় এলাকাকে নতুনরূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, জনগণ সুযোগ দিলে ঢাকা-৫ সংসদীয় এলাকা হবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত একটি বৈষম্যহীন মানবিক এলাকা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৫ আসন পরিচালক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে গণসংযোগ পক্ষের দাওয়াতী অভিযান পূর্বক পথসভায় আরোও বক্তব্য রাখেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও ডেমরা জোন পরিচালক অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান। এছাড়াও সভায় ঢাকা-৫ আসনের সহকারী পরিচালক ও যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানা আমীর শাহজাহান খান, ঢাকা-৫ আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী, যাত্রাবাড়ী মধ্য থানা আমীর এডভোকেট এ.কে আজাদসহ ঢাকা-৫ সংসদীয় এলাকার সকল সাংগঠনিক থানা আমীর-সেক্রেটারি ও দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে, নূরুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে কোনাপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে ফার্মের মোড় এলাকা পর্যন্ত গণসংযোগ পক্ষের দাওয়াতী অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন মার্কেটের দোকান মালিক ও কর্মচারী এবং পথচারীদের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত পত্রের লিফলেট বিতরণ করেন।
এনএইচ