সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চযোগে রাজধানীতে পৌঁছাতে শুরু করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তারা মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করছেন। সমাবেশস্থলে জাতীয় পতাকা ও দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ হাতে দেখা গেছে অনেককেই। উদ্যানের বাইরেও হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, এ সমাবেশ হবে স্মরণকালের বৃহত্তম। তাদের দাবি, অন্তত ১৫ লাখ মানুষের উপস্থিতি হবে এই আয়োজনে। এই সমাবেশের মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে নিজেদের শক্ত অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছে দলটি।

সমাবেশে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান গণহত্যার বিচার, সংস্কার-পরবর্তী পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং ‘২৪ জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার ভিত্তিতে জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। এছাড়া সমাবেশের মূল মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং ‘জুলাই শহীদ’ পরিবারের প্রতিনিধিরা।

জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের এটাই প্রথম একক ও বড় পরিসরের জাতীয় সমাবেশ। এর আগে দলটি রাজধানীর পল্টন, বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করলেও সোহরাওয়ার্দীতে বড় সমাবেশ করেনি।

সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াত। সমাবেশস্থলে নির্মাণ করা হয়েছে ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৩৬ ফুট প্রশস্ত মঞ্চ। এতে এলইডি মনিটর, অতিথিদের জন্য বসার সুব্যবস্থা এবং অন্যান্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। মাঠজুড়ে ছাউনি, চিকিৎসা বুথ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। পার্কিং, ওজু ও নামাজের জায়গা, অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ঢাকা ও আশপাশের জেলা—গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ দেশজুড়ে জামায়াত ব্যাপক সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়েছে। প্রস্তুতি সভা, গণসংযোগ, মিছিল এবং কর্মী সমাবেশের পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার বাস ও কয়েক জোড়া ট্রেন রিজার্ভ করা হয়েছে। লঞ্চে করে দক্ষিণাঞ্চলের নেতাকর্মীরাও একদিন আগেই ঢাকায় পৌঁছেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের এই মহাসমাবেশ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিএনপিসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সমাবেশ সফল করতে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। নিরাপত্তা, যানবাহন পার্কিং, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দলটির নেতারা বলছেন, এই জাতীয় সমাবেশ শুধু সংখ্যার দিক দিয়ে নয়, রাজনৈতিক বার্তা ও সাংগঠনিক শক্তির প্রকাশ হিসেবেও যুগান্তকারী হতে যাচ্ছে।

এনএইচ