রওশন এরশাদকে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আমার মৃত্যুর পর রওশন এরশাদ পার্টির দায়িত্ব নিলে আমি খুশি হবো। তাকে আমি জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো চেয়ারম্যান ঘোষণা করছি। আজ থেকে জাতীয় পার্টিতে কোনো ভেদাভেদ নেই।

আজ বুধবার বেলা ৫ টায় রংপুর গঙ্গাচড়া উপজেলা মাঠে উপজেলা জাতীয় পার্টি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। গঙ্গাচড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সামসুল আলমের সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা, হুইপ শওকত চৌধুরী প্রমুখ।

এরশাদ বলেন, আমার মুত্যুর পর রওশন যদি জাতীয় পার্টির দায়িত্ব নেন, তাহলে আমি খুশি হবো। কারণ উনি আমার জন্য অনেক করেছেন। আমার জন্য জেলে গিয়েছেন। এরশাদ বলেন, এখন কাউন্সিল হবে। কাউন্সিল যাতে না হয় সেজন্য অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে।

আজ সকল ষড়যন্ত্রের অবসান হলো। এখন কাউন্সিল হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হবে। এরশাদ বলেন, আজ থেকে আমি আর রাঙ্গা এক। আল্লাহকে হাজির নাজির রেখে বলছি এই দিনটির জন্য আমি অপেক্ষায় ছিলাম।

কয়েক মাস আগে এরশাদ রংপুরের নর্থভিউ হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে ছোট ভাই জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান এবং তার মৃত্যুর পর জি এম কাদের জাতীয় পার্টির দায়িত্ব পালন করার কথা বলেছিলেন।

জনসভায় আবেগতাড়িত কণ্ঠে এরশাদ এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দেখিয়ে দিয়ে বলেন, আমরা মামা ভাগনা এক হওয়ার জন্যই ছিলাম। এই দিনটার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আল্লাহকে হাজির নাজির রেখে বলছি। এই দিনটার জন্যই অপেক্ষাই ছিলাম।

রাঙ্গার সাথে আমার সম্পর্ক মামা ভাগনের। আমি যতদিন বেচে আছি, ততদিন এই সম্পর্ক নষ্ট হবে না। রাঙ্গার সাথে আমার রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়, ওর সাথে আমার মনের সম্পর্ক। আমরা এসেছি একসাথে । থাকবো একসাথে। ঘুমাবো একসাথে। আজ থেকে আমাদের মধ্যে আর কোনো ভেদাভেদ নেই। জাতীয় পার্টিতে ভেদাভেদ নেই।

এরশাদ আরো বলেন, এতদিন আমরা দুর্বল হচ্ছিলাম। আজ থেকে সব অবসান। আজ থেকে জাতীয় পার্টি একএক এক। সকল ভাঙ্গাভাঙ্গির অবসান।

এরশাদ বলেন, এই নির্বাচনে সরকার সুমান অর্জন করতে পারে নাই। হারি আর জিতি আমা নির্বাচন করবোই। যাকে মনোনয়ন দিবো। তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে। আমরা হারলে মুখ দেখাতে পারবো না। আমাদের মধ্যে বিভেদ নেই। মনোনয়ন যাকে দেয়া হবে তার পক্ষে কাজ করবেন।

বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, আমি জেলে ছিলাম ৬ বছর। ঈদের নামাজ পড়তে পারি নাই। রোজার সময় মিষ্টি খেয়েছিলাম। লেখা না থাকার কারণে গরুর গোশত খেতে দেয় নাই। আমার জন্য স্ত্রী আমার রওশন অনশন করেছিলেন। পিজিতে পাঠানোর জন্য। দেই নাই। আমাকে যারা জেলে দিয়ছে। ছেলেকে জেলে দিয়েছে। বউকে জেলে দিয়েছে। তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। যাচ্ছে। আমরা থাকবো।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বড় প্রতিহিংসাপরায়ণ মহিলা। আমার বউ জেলে ছিল ২ বাচ্চা নিয়ে। মেয়ের তখন ৫ বছর বয়স। মেয়েটা জেলে ছিল। যখন জেল থেকে বের হলো, তখন তাকে স্কুলে নিলো না। ৯৬ নির্বাচনের পরে ব্যারিষ্টার আনিছুল বিএনপি করতেন। এখন আওয়ামী লীগমনা মন্ত্রী। ওই সময় তারা অত্যাচার করেছে আমার ওপর, আমার বাচ্চার ওপর। তবুও বিএনপিকে সমর্থন করি নাই। আমাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অফার করা হয়েছিল।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা জনসভায় বলেন, রওশন এরশাদের সাথে আমার কথা হয়েছে, তিনি আমাকে বলেছেন, এরশাদ সাহেব যেভাবে বলেছে সেভাবেই দল চলবে। কোথাও আর কোনো বিভেদ নেই। তিনি আরো বলেন, সরকার খারাপ করলে আমরা সরকারে থাকবো না।

আমরা পার্লামেন্ট থেকে সরে আসলে সরকারও থাকবে না। তিনি বলেন, আজ থেকে জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নেই।

সভায় জি এম কাদের বিশেষ অতিথি থাকলেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তবে রংপুর মহানগর জাপার আহবায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর