বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়ায় ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। সমসাময়িক প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের একই বিষয় উঠে এসেছে।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের সময় তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছিলেন এবং সংসদেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। এতে তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্পটি খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কানে আসে, কোনো এক দেশের ভয়ে এই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে।’
জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ওপর আস্থা রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোনো দেশের ভয় বা চাপের কারণে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়। তাঁর ভাষ্য, সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করলে তারা সহযোগিতা করবেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’ পক্ষে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি সরকার গঠন করার পর গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না।
তবে গণভোটের ফল ও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়ে এটিএম আজহারুল ইসলামের বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের সময় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এসব সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনগণের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতেই তারা রাজপথে কর্মসূচি পালন করছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারকে সতর্ক করেন।
এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এটিএম আজহারুল ইসলাম জানান, ওইদিন সকাল ৮টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হবে।
পথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ও বগুড়ার মাটিডালিতে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক ঘোষণাতেও ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান, জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নওগাঁ জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু সায়েমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এলডিপির বগুড়া জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান এবং এনসিপির বগুড়া জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার সায়েম মাহমুদসহ অন্য নেতারাও প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
এস





