সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকের এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বিরোধী দলীয় নেতা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে বৈশ্বিক ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখতে পারছে না। ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে অসংখ্য পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে আমাদের কোনো সম্মানজনক অবস্থান নেই, বরং আমরা দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছি। এর মূল কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা মিশন নেই। দক্ষ ও যোগ্য মানুষকে সম্মান না দিয়ে বরাবরই রাজনৈতিক প্রাধান্য ও নিজেদের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে লালন করার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি দেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রতি বাজেটে কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি।

বিরোধী দলীয় নেতা সংসদে জানান, কওমি ধারা মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘সরকারি অনুদান নিলে শিক্ষার মৌলিকত্ব ক্ষুণ্ন হবে, কওমি ধারার এমন একটি আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকারের উচিত তাদের সম্মিলিত সংস্থা হাইয়াতুল উলইয়ার (আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কাওমিয়া বাংলাদেশ) সঙ্গে বসে নিশ্চয়তা দেওয়া যে, তাদের পরামর্শ মোতাবেকই এটি পরিচালিত হবে। তাহলে একটি পথ বের হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের যে হক রয়েছে, তা বুঝিয়ে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। একইভাবে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখে জুলুম না করে, রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে একটি নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে মান যাচাই করে দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান তিনি। এছাড়া দেশের যোগ্য সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, উন্নত দেশের মতো বিত্তবানদের জন্য বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত সরকারি শিক্ষা নিশ্চিত করা পুরোপুরি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হওয়া উচিত। এই লক্ষ্যে পাহাড়ের অনগ্রসর ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য সেবার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের ন্যায্য অধিকার হাতে তুলে দিলে পাহাড়ে আর কোনো দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যকে প্রাণ হারাতে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণাধর্মী করার ওপর জোর দিয়ে তিনি অন্তত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট ও অতিরিক্ত ফান্ড দিয়ে গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর করার প্রস্তাব দেন, যাতে দেশ চিরকাল আমদানি-নির্ভর না থেকে নিজস্ব পণ্য রপ্তানির যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।

এমএম