বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমান আপাতত শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন ইউনাটেড হাসপাতালের কিনিক্যাল অপারেশন বিভাগের পরিচালক মো: দবির উদ্দিন আহমেদ।
বুধবার দুপুর ২টায় হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রিয়াজ রহমানের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়ার মাধ্যমে চারটি ক্ষত ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে অ্যান্টিবায়োটিকসহ পরিস্কার করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. দবির উদ্দিন বলেন, এ মুহূর্তে রিয়াজ রহমান শঙ্কামুক্ত বলা যায়।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কে অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসনের বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে তার সাখে দেখা করে ফেরার পথে গুলশান ২ নম্বরের কাছে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমান। সন্ত্রাসীরা তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে এবং তার ব্যক্তিগত গাড়ি পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।
রিয়াজ রহমানকে পর্যবেক্ষণের জন্য বর্তমানে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। এরআগে হাই ডিপেন্ডেন্ট ইউনিটে (এইচডিইউ) তাকে রাখা হয়েছিল। দুপুর আড়াইটায় তাকে ওপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেয়া হয়।
সেখান থেকে বিকেল পাঁচটার কিছু পরে আইসিইউতে রাখা হয়। বর্তমানে তার পাশে আছেন স্ত্রী নার্গিস রহমান, মেয়ে আমেনা রহমান ও রিয়াজ রহমানের ছোট ভাই বেসরকারি ইনডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এম ওমর রহমান।
এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার শুরু থেকেই রিয়াজ রহমানের বিভিন্ন ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন।
বুধবার সকালে অর্থোপেডিকস বিভাগের অধ্যাপক আমিনুল হাসানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপ।
বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- সার্জারী বিভাগের বিশেষজ্ঞ লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব:) এ কে এম জাফরুল্লাহ সিদ্দিক, নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো: মাহবুবুর রহমান, ডায়াবেটিকস বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুল ইসলাম, মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ মো. ইকবাল হোসেন ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ।
সাংবাদিকদের কাছে গুলিবিদ্ধ রিয়াজ রহমানের স্বাস্থ্যের অবস্থা তুলে ধরে ডা. দবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, রিয়াজ রহমানের বামদিকে পেছনে দুটি ও বাম দিকের হাঁটুর নিচে দুইটি ত রয়েছে। আগমন ত যা প্রতিটি দেড় সেন্টিমিটার গভীর এবং ক্ষত স্থানটি পোঁড়া ও কালো দাগযুক্ত। নির্গমণ ক্ষত দুটি দুই সেন্টিমিটার গভীর।
তিনি বলেন, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই রিপোর্টে কোনো ধাতব (মেটালিক) বস্তু পরিলতি হয়নি। তবে নরম ও স্নায়ু পেশীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিয়াজ রহমানের বাম পায়ের গোড়ালি ফোলা ও ফুট ড্রপ দেখা গেছে। তার বাম পায়ের অনুভূতি কম, তিনি পা নাড়াচড়া করতে পারছেন না।
রিয়াজ রহমানের দেহে গুলি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আগমন-নির্গমন (এন্ট্রি-এক্সিট) ক্ষত আছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে।
এর আগে বেলা ১২টায় মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করে রিয়াজ রহমানের স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে রিয়াজ রহমানকে দেখতে সাবেক কূটনীতিকরা গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ছুটে আসেন। দিনভর সেখানে বিভিন্ন কূটনীতিক এবং পেশাজবীবীদের দেখা গেছে।
তাদের দেখতে গতকাল হাসপাতালে যান ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এম সাইদুজ্জামান, অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক আহমেদ চৌধুরী, ফারুক সোবহান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব:) মাহবুবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রিয়াজ রহমানের মতো একজন কূটনীতিকের ওপর এভাবে হামলার ঘটনা বহির্বিশ্বে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়েছে। এটা কোনোভাবে কাম্য নয়। আমরা এরকম ঘটনায় উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ।
এসএইচ





