বিশেষ করে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে তারা স্লোগান দিতে দিতে প্রবেশ করেন সমাবেশস্থলে। কেউ আসছেন বাসে, কেউবা পিকআপ ও ব্যক্তিগত যানবাহনে চড়ে। সংগঠিতভাবে দুপুরের আগে থেকেই এই দুই জেলার নেতা-কর্মীরা রাজধানীর পথে যাত্রা শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ঢল নামে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

সকাল থেকেই দেখা গেছে, উদ্যানে জায়গা না পেয়ে অনেকে আশপাশের এলাকা—বিশেষ করে রমনা পার্ক, শাহবাগ, টিএসসি ও বাংলামোটরের দিকেও অবস্থান নিয়েছেন। অনেককে দেখা গেছে গরম উপেক্ষা করে রাস্তার পাশে বসে বিশ্রাম নিতে, কেউবা দলবদ্ধভাবে আড্ডা দিচ্ছেন, কেউ আবার তাস বা লুডু খেলছেন।

এই জাতীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ও সংগঠনিক প্রস্তুতিরও নজির দেখা গেছে। প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ভোর থেকে দায়িত্ব নিয়েছেন সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায়। তারা মিছিলের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, দিক নির্দেশনা, ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

সমাবেশের লক্ষ্য ও দাবিসমূহ

জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, এই মহাসমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হলো সাত দফা দাবির পক্ষে জাতীয় জনমত গড়ে তোলা। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা
  • সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা
  • প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন
  • 'জুলাই সনদ' ও ঘোষণাপত্র কার্যকর করা
  • জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবার পুনর্বাসন
  • সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন
  • এক কোটিরও বেশি প্রবাসী ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামী এককভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করছে। আগে কখনো দলটি এতো বৃহৎ পরিসরে রাজধানীতে জনসমাবেশ করেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াত তাদের সাংগঠনিক শক্তি, জনভিত্তি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখার একটি শক্ত বার্তা দিতে চায়।

এনএইচ