বৃহস্পতিবার এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর এমন বর্বর হামলা চালানো এবং পরবর্তীতে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমকে পিটিয়ে দমন করার সন্ত্রাসী দম্ভোক্তি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে ক্ষমতাসীনদের একাংশ গণমাধ্যমের ন্যূনতম স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের ক্যাডারতন্ত্র, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি মেনে নেওয়া হবে না।
এতে বলা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করা এবং পরবর্তীতে মিডিয়াকে পিটিয়ে সোজা করার হুমকি দেওয়া কেবল সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হামলা নয়; এটি দেশের সামগ্রিক বাক-স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর এক মারাত্মক আঘাত। গণমাধ্যমকে শত্রু মনে করা এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা স্তব্ধ করার এই অপচেষ্টা প্রমাণ করে যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি অংশ এখনো ফ্যাসিবাদী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে যারা সাংবাদিকদের ওপর হাত তোলার দুঃসাহস দেখায়, তারা মূলত সমাজ ও রাষ্ট্রকে আবারও স্বৈরাচারী অন্ধকার যুগে ঠেলে দিতে চায়।
অবিলম্বে শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী এবং ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু’ দম্ভোক্তি প্রদানকারী বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ জড়িত সকল ক্যাডারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে সারা দেশে কর্মরত সাংবাদিকদের অবাধে সত্য সংবাদ প্রকাশের নিরাপদ পরিবেশ ও আইনগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
এছাড়া মুক্ত গণমাধ্যম ও বাক-স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ে এনসিপি দেশের সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এমএম