তিনি বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ক্ষমতা ও প্রভাবের জন্য হলেও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি কেবলই মানুষের জন্য। নিজেকে ‘এমপি সাহেব’ বলার চেয়ে ‘জনগণের সেবক’ শব্দটি তাঁর কাছে অধিক প্রিয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সেবা করার জন্যই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। আর জনগণ তাঁকে জনগণের সেবা করার জন্যই নির্বাচিত করে সংসদ সদস্য বানিয়েছেন। তাই তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাবেন।
বাউফল উপজেলার নওমালা বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পটুয়াখালী জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, “নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও পানি প্রবেশের কারণে মানুষের জানমাল, কৃষি ও বসতভিটা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আজ যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু হলো, এটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়—এর সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা, কৃষকের ফসল, বসতভিটা এবং এলাকার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।”
বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজের গুণগত মান ও স্থায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের অর্থে যে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেটি জনগণের স্বার্থেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। কাজের মান ও স্থায়িত্বের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।”
বাউফল নদীবেষ্টিত উপজেলা উল্লেখ করে ড. মাসুদ এমপি বলেন, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, পানি বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় বিচ্ছিন্নভাবে নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। টেকসই বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, কৃষিজমি সুরক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “উন্নয়নের প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন সাধারণ মানুষ তার সুফল ভোগ করবে। বাউফলের কোনো ইউনিয়ন, কোনো ওয়ার্ড বা কোনো জনগোষ্ঠী উন্নয়নের বাইরে থাকবে না। মানুষের নিরাপদ বসবাস, কৃষকের স্বস্তি এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের উন্নয়নের অন্যতম লক্ষ্য।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি ও পানি প্রবেশের কারণে নওমালার বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থায় দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়ে আসছিল। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রচেষ্টায় অবশেষে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বেড়িবাঁধটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবেশের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা শোনেন। এ সময় স্থানীয়রা দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজটি সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এনএইচ











