বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতির ‘কুকীর্তি’ ও নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তাকে তিনটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য দিয়ে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মামলা থেকে ‘ক্লিনশিট’ দেওয়া এবং খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিশ্চিত করা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার এখনো রাষ্ট্রপতি হিসেবে কেন মেনে নিচ্ছে? তিনি রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দেওয়ার ‘কারিগর’ হিসেবেও অভিযুক্ত করেন।
সংবিধান ও ‘৭২-এর বিতর্ক
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, “বাহাত্তরের সংবিধান উত্তরাধিকার সূত্রেই অগণতান্ত্রিক। স্বৈরতন্ত্রের বীজ এই সংবিধানেই বপন করা হয়েছিল এবং এটি সম্পূর্ণ মুজিববাদী আদর্শে রচিত।” তিনি দাবি করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই সংবিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তা বাতিলের ঐতিহাসিক সুযোগটি তিনি কাজে না লাগিয়ে ভুল করেছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপি যদি ৭২-এর সংবিধানের পক্ষে অটল থাকে, তবে তারা সংবিধান পুনর্লিখনের দাবিতে আগের অবস্থানে ফিরে যাবেন।
আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন নাহিদ। তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যদের ১১ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে, যার অধিকাংশই সরকারি দলের। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে কেবল ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ করে দিতে।”
জুলাই জাতীয় সনদ ও বিএনপি’র অবস্থান
জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপি’র ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর এখন বিএনপি ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উচিত দ্রুত সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন করা।” তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিলের পর দ্রুত নতুন আইন আনার দাবি জানান।
সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও সাম্যের ভিত্তিতে। পাশাপাশি দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, গত দুই মাসে ৩১ জন খুন ও ১৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার দাবি করেন এবং জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সরকারকে সমন্বিত বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষে নাহিদ ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি দলের সদস্যরা যেভাবে গণভোট ও সংস্কার পরিষদকে অস্বীকার করছেন, তাতে তিনি অত্যন্ত হতাশ। জনগণের কাছে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তিনি সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।
এমএম