বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এই উদ্বেগের কথা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নেত্রকোণা, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসলি জমি, গবাদি পশু এবং ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সবচেয়ে সংকটে পড়েছে চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। অনেক কেন্দ্র ও রাস্তাঘাটে পানি উঠে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম বিঘ্ন ঘটছে। জামায়াত নেতা পরীক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত ও সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি আহ্বান জানান।

বাঁধ সংস্কারে গাফিলতির অভিযোগ সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন:“সরকার যদি আগে থেকেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সংস্কার করত, তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হতো। কর্তৃপক্ষের কার্যকর প্রস্তুতির অভাবেই আজ সাধারণ মানুষ অসহায়।”

জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রধান দাবিগুলো: জরুরি ত্রাণ: ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া।

কৃষক প্রণোদনা: ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ। টেকসই সমাধান: ভবিষ্যতে দুর্ভোগ এড়াতে বাঁধগুলোর দ্রুত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান

কেবল সরকারের ওপর নির্ভর না করে দেশের বিত্তবান শ্রেণি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ দেশবাসীকেও বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, যা বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমএম