জবাবদিহিতা না থাকার কারণে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রশ্রয়ে র‌্যাব উন্মাদ ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে উল্লেখ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, র‌্যাবকে ইনডালজেন্স (ইচ্ছাপূরন) পত্র দেয়া হয়েছে। সেজন্য এই মুহুর্তে র‌্যাবের বিলুপ্ত করা না হলে ‘অবৈধ’ সরকারের এবং কালো টাকার মালিকদের অশুভ ইচ্ছা বাস্তবায়নে মানুষের জীবন নাশের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় রিজভী আহমেদ সম্প্রতি সময়ে র‌্যাবের কর্মকাণ্ডের ব্যাপক সমালোচনা করে র‌্যাবকে মানুষের ঘুম কেড়ে নেয়া মুর্তিমান বর্গীসেনা, সিরিয়াল কিলার এবং রক্ষীবাহিনীর প্রেতাত্মা হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দেশব্যাপি খুন খারাপি চালিয়ে যাওয়ার নিজস্ব মার্সিনারি বাহিনীতে পরিণত করেছে। এজন্য একের পর এক মানবতাবিরোধী গুরুতর অপরাধ করার পরও আইনের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, ঘটনার পর থেকেই নিহত নজরুলের শশুর অভিযোগ করেছিলেন কাউন্সিলর নূর হোসেন টাকার বিনিময়ে র‌্যাবকে দিয়ে এই গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। এরপরও র‌্যাবের অভিযুক্ত কমকর্তাদের গ্রেফতার না করে সব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে অবসরের দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত র‌্যাব কর্মকর্তার একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর জামাতা হওয়ার কারণে রাষ্ট্রের প্রটেকশন পেতে তাদের কোনো বিলম্ব হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের আত্মীয় হওয়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা মানুষ হত্যা করতে অতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। যার শিকার অধিকাংশ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী। এরা টাকার বিনিময়েও এখন মানুষ হত্যার বাণিজ্যে নেমে পড়েছে। আইনের বাহিনীর বদলে হায়ার্ড কিলার হিসেবে অভিহিত হচ্ছে।’
র‌্যাবকে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে অভিহিত করে রিজভী আরও বলেন, র‌্যাব এখন যেন মানুষের ঘুম কেড়ে নেওয়া মূর্তিমান বর্গি সেনা। দেশব্যাপী সিরিয়াল কিলারের নাম এখন র‌্যাব।
র‌্যাবের সংস্কার না চেয়ে বিলুপ্তি চাওয়া হচ্ছে কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, র‌্যাবকে ঘাতক বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে। এর সুনাম পুরো নষ্ট হয়েছে। এখন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে র‌্যাব। মানুষের মন থেকে কখনো এই আতঙ্ক, আশঙ্কা কাটবে না। এই ভীতি-আশঙ্কা কাটানোর জন্যই র‌্যাবকে বিলুপ্ত করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সাত খুনের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে হবে। আর অন্যদিকে নিহত নজরুলের শশুর বলছেন, নজরুলসহ সাত খুনের ঘটনার প্রধান আসামী নূর হোসেনকে সীমান্ত পার করে কলকাতায় পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান। এই জিয়াউল প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত কাছের লোক।’
সংবাদ সম্মেলনে অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাড রফিক শিকদার প্রমূখ।
[b]ঢাকা, এমএইচ, ১৪ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ[/b]