বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় শ্রমিক সমাজকে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আগস্ট বিপ্লব এমনিতেই হয়নি, এজন্য অনেক ত্যাগ ও কুরবানির প্রয়োজন হয়েছে। ছাত্র, তরুণ-যুবক ও শ্রমিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কাছে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা ছেড়ে বিদেশে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এজন্য অনেকেই জীবন দিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেকে জীবিকা হারিয়েছেন, অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১০ এর সেনপাড়া পর্বতা ঈদগাহ মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবের এক হাজার শহীদের তালিকা আমাদের হাতে আছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই শ্রমিক শ্রেণির মানুষ। দেশ ও জাতির যেকোনো ক্রান্তিকালেই শ্রমিক সমাজ ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। তাই ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় শ্রমিকদের যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিচ্ছে না। জুলাই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে—এটাই সময়ের দাবি। সরকার তাদের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই শ্রমিক সমাজকে আবারও রাজপথে নামতে হচ্ছে।
জামায়াত আমীর বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় বাংলাদেশের মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, লুটপাট, অপরাধ ও জুলুমে দেশ ভরে গিয়েছিল। ফ্যাসিবাদের পতনের পর জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও অন্তর্বর্তী সরকার দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতের ওপর জুলুম-নির্যাতনের যে ভয়াবহতা চালানো হয়েছে, তা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীরা জামায়াত নিষিদ্ধ করেও শেষ রক্ষা করতে পারেনি; তারা এখন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করতে শ্রমিক সমাজকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আসন্ন নির্বাচন দেশ ও জাতির ভাগ্য নির্ধারণী নির্বাচন। কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই; সবাইকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মুসা। সঞ্চালনা করেন ঢাকা-১৫ আসনের সদস্য সচিব ও মিরপুর পূর্ব থানার আমীর শাহ আলম তুহিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম, এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য শহিদুল্লাহ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, কাফরুল দক্ষিণ থানা আমীর উপাধ্যক্ষ আনোয়ারুল করিম, মহানগরী যুব বিভাগের সভাপতি ডা. মো. মঈন উদ্দিন, কাফরুল উত্তর আমীর রেজাউল করিম মাহমুদ, কাফরুল পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত আমীর আতিক হাসান, মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য মু. আবু নাহিদ, কাফরুল উত্তর থানা সেক্রেটারি আশিকুর রহমান, মহানগরী যুব বিভাগের সহ-সভাপতি খান হাবিব মোস্তফা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কাফরুল জোন পরিচালক মিজানুর রহমান, শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
এনএইচ