এই পরিস্থিতিতে তাপস ফোন দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। অনুরোধ করেন, ওই কর্মকর্তাকে বলে তাকে যেন ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া দুটি অডিও রেকর্ডে উঠে এসেছে শেখ হাসিনা ও তাপসের এই কথোপকথনের বিস্তারিত। একটি রেকর্ডের তারিখ ২০২৪ সালের ২২ জুলাই, অন্যটি ৩ আগস্টের বলে দাবি করা হচ্ছে।
৩ আগস্টের অডিও ক্লিপে শোনা যায়, তাপস শেখ হাসিনাকে বলেন, ‘আমি একটু সিঙ্গাপুর যেতে চাচ্ছিলাম, যাব?’ তখন হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ যাও। যাবা না কেন?
এরপর তাপস বলেন, ‘আমি এয়ারপোর্টে চলে আসছি। জিওটা (বিদেশ যাত্রায় প্রয়োজনীয় গভর্নমেন্ট অর্ডার) এখনো হয় নাই বলে এখানে ইয়ে করছে না।’ তখন হাসিনা তাপসকে প্রশ্ন করেন, ‘জিওটা সঙ্গে নিলে না কেন?’ তাপস উত্তরে বলেন, ‘অ্যাপ্লাই করে দিছি, কিন্তু হতে হতে তো ১১টা-১২টা বাজতে পারে, মানে তোমার ওখানে যেতে। তো আমি ইমিগ্রেশনে আসছি, কাউকে ইমিগ্রেশনে বলে দেওয়া যাবে নাকি? আমার ফ্লাইট এখনি ছেড়ে দেবে।’
জবাবে হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ, বলা যাবে। ফাইল পাঠাইছো তো?’ তখন তাপস বলেন, ‘হ্যাঁ, ফাইল প্রমিত মহোদয় পাঠাচ্ছেন।’ হাসিনা বলেন, ‘আচ্ছা, দিয়ে দাও।’ তখন তাপস হাসিনাকে একজন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অনুরোধ করে বলেন, ‘এই যে এখানে অফিসার আছেন, ইমিগ্রেশন অফিসার।’ তখন হাসিনা তাপসের কাছে জানতে চান, কাউকে বলিয়ে দিতে হবে কি না? তাপস বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি দিব ফোনটা?’ হাসিনা বলেন, ‘না না, আমি তার সঙ্গে কথা বলব কেন। আমি আমার অফিসের কর্মকর্তার মাধ্যমে বলিয়ে দিতে পারি।’
তাপস জানতে চান, ‘কাকে বলব তাহলে?’ হাসিনা বলেন, ‘আমার সেক্রেটারিকে বললেই হবে, শাহ সালাউদ্দিন।’ তাপস পুনরায় নিশ্চিত হতে জিজ্ঞেস করেন, ‘সালাউদ্দিন সাহেব?’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ’।
শেখ হাসিনা-তাপসের ফোনালাপের ২২ জুলাইয়ের অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, তাপস শেখ হাসিনাকে বলেন, ‘হাসুমনি, একটু আসতে চাচ্ছিলাম, তোমাকে দেখতে চাচ্ছিলাম, আসব?’ জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসবের মধ্যে আসার দরকার নেই।’
তখন তাপস বলেন, ‘তাহলে (কারফিউ) শিথিল হওয়ার পর আসি?’ হাসিনা বলেন, ‘আমি তখন অফিসে থাকব। ব্যবসায়ীদের ডাকছি তো। ২-৩টার সময়।’ তাপস বলেন, ‘আচ্ছা, তাহলে ওই সময় অফিসে এসে দেখা করে যাব।’
এনএইচ