শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে রমনা থানার সিদ্ধেশ্বরী ওয়ার্ডের স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া না হলে শুধু আওয়ামী লীগই নয়, এরাও ক্ষমতায় গেলে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর অবিচার শুরু করবে। জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইনগত পূর্ণ বৈধতা এবং জুলাই চেতনা বাস্তবায়নের জন্য জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, যারা আওয়ামী লীগের সংবিধান রক্ষায় উঠে পড়ে লেগেছে তারা আওয়ামী লীগের মতোই ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। মিডিয়ার সামনে দেশপ্রেম ও নৈতিকতার কথা বললেও তাদের উদ্দেশ্য খারাপ। যদি তারা ক্ষমতায় বসতে পারে তবে আবারও আওয়ামী লীগের রচিত সংবিধানের কালো আইনে দেশ চালাবে, বিরোধী দলকে দমন করবে, মানুষের কণ্ঠরোধ করবে, গণমাধ্যমকে শিকলে বন্দী করবে এবং একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে জাতিকে শাসন ও শোষণ করবে। কিন্তু সংবিধান সংশোধন করে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনগণ শোষণ থেকে মুক্তি পাবে।”
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জাতিকে শাসন নয় বরং সেবা করবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে নারীর লুণ্ঠিত স্বাধীনতা ফিরে আসবে। একমাত্র ইসলামই নারীদের অধিকার, সুরক্ষা এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। ডাকসুতে ছাত্রশিবিরের সাথে যেভাবে ছাত্রীরা কাজ করতে পেরেছে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সেভাবেই নারী সমাজ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভোটের মাধ্যমে ছাত্রশিবিরকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়ে যে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, সেই ধারাবাহিকতায় দেশবাসীকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ড. হেলাল উদ্দিন।
সিদ্ধেশ্বরী ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আ জ ম ওবায়দুল্লাহ’র পরিচালনায় আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও পল্টন থানা আমীর শহীন আহমেদ খান, মহানগরীর মজলিসে শূরার সদস্য ও রমনা থানা নায়েবে আমীর এডভোকেট সুলতান উদ্দীন এবং রমনা থানা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
সভায় রমনা থানা কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এনএইচ