রাষ্ট্রপতিকে ‘গণহত্যাকারী’ আখ্যা
বক্তব্যের শুরুতেই রফিকুল ইসলাম খান বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি সরাসরি গণহত্যার সাথে জড়িত। তিনি শেখ হাসিনার কোনো কাজকে কখনো নিষেধ করেননি, বরং নির্বিঘ্নে সহযোগিতা করেছেন। এমন একজন ব্যক্তিকে আমরা ধন্যবাদ জানাতে পারি না।”
এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিতর্কিত হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান রাষ্ট্রপতির প্রতি বিএনপির কেন এত ‘দুর্বলতা’। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিএনপি তাদের এক সময়ের মহাসচিব বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরাতে সময় নেয়নি, তবে এখন কেন তারা চুপ?
সরকার ও বিরোধী দল বিএনপির সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সবাই একসঙ্গে থাকলেও নির্বাচনের পর হঠাৎ করেই ‘জামায়াত’ সবার লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কোনো কথা নেই,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সরকারি দলের কোনো বক্তব্য নেই, তাদের একমাত্র আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘জামায়াত ইসলামী’।
২০১৩ ও শাপলা চত্বর নিয়ে নতুন তথ্য
বক্তব্যে তিনি ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ এবং শাপলা চত্বরের ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি দাবি করেন, সে সময় স্বৈরাচারী সরকারের পতন হওয়ার কথা থাকলেও গুলশানে বিএনপি ও জামায়াতের বৈঠকের পর রহস্যজনকভাবে শীর্ষ নেতাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গিয়েছিল। তিনি বলেন, “ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) বালুর ট্রাকের সামনে পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেদিন আমাদের মিছিল করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।”
প্রশাসনের ‘দলীয়করণ’ নিয়ে হুঁশিয়ারি
বর্তমান সরকারের দুই মাসের মাথায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ‘দলীয়করণ’ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য। তার ভাষ্যমতে, একপাক্ষিক নিয়োগ: ডিসি, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনে নিজেদের লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসন: ১৬-১৭ বছর যারা নির্যাতিত ও ওএসডি ছিল, তাদের আবারও ওএসডি করা হচ্ছে। অন্যদিকে ফ্যাসিবাদের দোসররা সুবিধামতো পোস্টিং ও পদোন্নতি পাচ্ছে।
রফিকুল ইসলাম খান সবশেষে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা লড়াই করেছিলাম বৈষম্য ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে। কিন্তু বর্তমান কার্যক্রমে সেই পুরনো শাসনেরই প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে।
এমএম