বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রোকেয়া বেগম বলেন, সেদিন সকালে আমার ছেলে জাবির মাথায় হেলমেট পরে তার বাবাকে বলেছিল, বাবা, আমার একটা ছবি তোলো। আমি আর্মি অফিসার হব। তখন ওর বাবা জিজ্ঞেস করেছিলেন, তুমি আর্মি অফিসার কেন হবে? জাবির উত্তরে বলেছিল, তুমি দেখোনি পুলিশ কীভাবে আমার ভাইদের মেরেছে? আমি আর্মি অফিসার হয়ে পুলিশকে মারব।

তিনি আরও বলেন, লং মার্চে যাওয়ার আগে ওর দাদি তাকে বলেছিলেন, তোমার যাওয়ার দরকার নেই। তখন জাবির তার দাদিকে বলেছিল, দাদু, আমি একটা পুলিশ মেরে চলে আসব। মাত্র ছয় বছরের একটা বাচ্চা কীভাবে এসব কথা বলতে পারে সেটা আমাদের বিমোহিত করেছিল। হয়তো শহীদ হবে সেজন্য শেষ মুহূর্তে আমাদের এসব কথা বলেছিলো।

রোকেয়া বেগম বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিয়ে অনেকে কটাক্ষ ও অবমাননার চেষ্টা করছে। তাদের বলতে চাই, আমি বিশ্বাস করি তারা সংখ্যায় খুবই কম। তাদের এসব অবমাননা আমাদের গায়ে লাগে না। কারণ আমাদের শহীদরা জীবন দিয়েছেন কোনো অবমাননা সহ্য করার জন্য নয়; তারা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, গত দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর বিচার সম্পন্ন করতে এত দেরি হচ্ছে কেন? অবিলম্বে হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করে শহীদ পরিবার ও আহতদের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

এস