একে অনেকেই ‘নাজাতের রাত’ বলে অভিহিত করে থাকেন। একটি দুর্বল সনদের হাদিসে রয়েছে রমজানের প্রথম দশদিন রহমত, দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাত এবং তৃতীয় দশদিন নাজাতের উপহার প্রদান করা হয়ে থাকে। শেষ দশকে রাসূল (সা.) ইবাদতের পরিমাণ বেড়ে যেত, তিনি কখনো এসব রাত জাগরণ ছাড়া কাটাননি।
রমজানের শেষ দশ দিনে ইতিকাফের ‘অবকাশ’ যাপন করতেন রাসূল (সা.)। তিনি রাতের ইবাদতে অত্যধিক শ্রম দিতেন, যা অন্য সময় দেখা যেত না। রমজান মাসের শেষ দশকে রাসূল (সা.) এত বেশি ইবাদত করেছেন যা অন্য সময়ে করেননি। ( মুসলিম, হাদিস: ১১৭৫)
আরেকটি হাদিসে আছে, রমজানে লোকেরা মসজিদে নামাজ আদায় করত...(দীর্ঘ হাদিসের একাংশে আছে, তিনি সকলকে সম্বোধন করে এরশাদ করেন, ‘লোক সকল, আল-হামদুলিল্লাহ, আজ রাত আমি গাফিলতি যাপন করি নি। এবং তোমাদের অবস্থানও আমার অবিদিত নয়।’ (আবু দাউদ: ১,৩৭৪)
রমজানের শেষ দশক আসলে রাসূল(সা.) পরনের কাপড় শক্ত করে বেঁধে নিতেন। রাত্রি জাগরণ করতেন এবং পরিবারের সকলকে জাগিয়ে দিতেন। পরিবারের সকলকে তিনি এ রাতে ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য জাগিয়ে দিতেন। (বুখারি, হাদিস: ২০২৪)
‘লুঙ্গি শক্ত করে বেঁধে নিতেন’ কথাটির অর্থ হলো তিনি এ দিনগুলোতে স্ত্রীদের থেকে আলাদা হয়ে যেতেন। মুসলিমের অভিন্ন বর্ণনায় রয়েছে, রমজানের শেষ দশদিনে নবীজি (সা.) কোমর বেঁধে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতেন। নিজে জাগতেন এবং পরিবারের লোকজনকেও জাগিয়ে তুলতেন। (বুখারি, হাদিস: ২,০২৪, মুসলিম, হাদিস: ১,১৭৪)
আবু যর (রা.) কাছ থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে রাত্রিজাগরণের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়:
‘আমরা রাসুলের সঙ্গে রমজানে সিয়াম পালন করেছি, সাত দিবস অবশিষ্ট থাকা অবধি তিনি আমাদের নিয়ে রাত্রি জাগরণ করলেন না। (সপ্তম রাত্রিতে) তিনি আমাদের নিয়ে রাতের এক-তৃতীয়াংশ অবধি রাত জাগরণ করলেন। ষষ্ঠ রাত্রিতে তিনি আমাদের নিয়ে রাত যাপন করলেন না। পঞ্চম রাত্রিতে তিনি অর্ধ রাত্রি অবধি নামাজে কাটালেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, পুরো রাতই যদি আপনি আমাদের নিয়ে নফল আদায় করতেন! আবু যর বলেন, রাসুল বললেন, ইমাম প্রস্থান করা অবধি যে ব্যক্তি তার নামাজ আদায় করে, তার জন্য পুরো রাত যাপনের সওয়াব লিখে দেওয়া হয়। অতঃপর চতুর্থ রাত্রিতে তিনি আমাদের নিয়ে যাপন করলেন না। তৃতীয় রাত্রিতে তিনি তার পরিবার-পরিজন, স্ত্রীগণ ও লোকদের সবাইকে একত্র করলেন এবং আমাদের নিয়ে এতটা সময় রাত্রি জাগরণ করলেন যে সাহরির সময় অতিক্রান্তের ভয় হল। (আবু দাউদ: ১৩,৭৭০)
হাদিস বিশারদেরা বলেন, ‘শেষ দশ দিনে রাত্রি জাগরণ করা’টা প্রমাণ করে, প্রথম বিশ দিন রাসুল পূর্ণ রাত্রি জাগরণ করতেন না—কিছু সময় ইবাদত করতেন, কিছু সময় ঘুমাতেন। কিন্তু শেষ দশ দিনে তিনি, বিছানায়ও যেতেন না। রাতের পুরোভাগেই ইবাদত করতেন।
লাইলাতুল কদর নামের এ দশ দিনের মধ্যে রয়েছে বলে বহু হাদিসে প্রমাণ পাওয়া যায়। সুতরাং শেষ দশকে কঠোর পরিশ্রম ও রাত্রিজাগরণের অন্যতম কারণ যে ছিল ‘কদর’ অনুসন্ধান, তা তিনি বিভিন্ন সময় বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন।
ইতিকাফের আমল
এই দশদিনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, রাসূল (সা.) এ-সময় মসজিদে ইতিকাফ করতেন। প্রয়োজন ব্যতীত তিনি মসজিদ থেকে বের হতেন না। ইবনে ওমর রা. বলেন, নবীজি (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। (মুসলিম, হাদিস: ১,১৭২)
এইচআর