হজরত ঈসা (আ.)-এর হজ পালনের বিষয়টি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! মরিয়ম পুত্র ঈসা (আ.) নিশ্চয়ই রাওহা উপত্যকায় হজ বা ওমরা অথবা উভয়টি পালনের জন্য তালবিয়া পাঠ করবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৯২০) এই হাদিসটি মুহাদ্দিসদের নিকট ‘সহিহ’ হিসেবে গৃহীত এবং এটি নির্দেশ করে যে, ঈসা (আ.) সশরীরে হজ বা ওমরা আদায় করবেন।

ঐতিহাসিক পথ ‘রাওহা’ উপত্যকা

হাদিসে উল্লিখিত রাওহা উপত্যকা হলো মদিনা ও মক্কার মধ্যবর্তী একটি ঐতিহাসিক উপত্যকা। এটি প্রাচীনকাল থেকেই হজযাত্রীদের নিকট একটি পরিচিত পথ হিসেবে স্বীকৃত। ঈসা (আ.)-এর এই পথ বেছে নেওয়া এবং উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠের বিষয়টি নির্দেশ করে যে, তিনি নবী মুহাম্মদ (স.)–এর সুন্নাহ ও শরিয়তে মুহাম্মদির পূর্ণ অনুসরণ করবেন।

সফরের প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক পরিবেশ

হাদিস ও আকিদাগত বর্ণনা অনুযায়ী, ঈসা (আ.)-এর এই হজ পালনের সময়কাল হবে দাজ্জাল নিধনের পরবর্তী যুগ, যখন পৃথিবীতে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। আলেমদের মতে, এটি বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রতীকী প্রকাশ। তিনি একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে প্রচলিত ইসলামি বিধিবিধান অনুযায়ী এই পবিত্র সফর সম্পন্ন করবেন।

তাত্ত্বিক তাৎপর্য ও বিশ্বাসের সংশোধন

ঈসা (আ.)-এর এই হজ পালনের বিষয়টি ধর্মীয় ও তাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রথমত প্রমাণ করে যে, সকল নবীর মূল দাওয়াত ছিল অভিন্ন এবং কাবা শরিফ সেই তাওহিদি চেতনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। দ্বিতীয়ত, তাঁর এই আমল বিদ্যমান কিছু ধর্মীয় বিশ্বাসের সংশোধন ঘটাবে; বিশেষত ঈসা (আ.)-এর মানবিক সত্তা এবং আল্লাহর প্রতি তাঁর নিরঙ্কুশ আনুগত্যের বিষয়টি এর মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে। তাঁর পুনরাগমন ও হজ আদায় প্রমাণ করবে যে, তিনি আল্লাহর একজন একনিষ্ঠ বান্দা ও রাসুল।

হাফেজ ইবনে কাসির এবং ইমাম নববির মতো প্রখ্যাত পন্ডিতগণ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, ঈসা (আ.)-এর এই হজ পালন হবে তাঁর আধ্যাত্মিক ও শাসনতান্ত্রিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিছু বর্ণনায় হজ শেষে তাঁর মদিনায় রওজা মোবারক জিয়ারতের প্রসঙ্গ এসেছে; তবে মুহাদ্দিসদের মতে রাওহা উপত্যকা থেকে তালবিয়া পাঠের বিষয়টি দালিলিকভাবে অনেক সুসংহত।

হজরত ঈসা (আ.)-এর ভবিষ্যতের হজ পালন সংক্রান্ত হাদিসটি প্রমাণ করে যে, হজের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক মর্যাদা কেয়ামত পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকবে। পৃথিবীর শেষ যুগে একজন মহান নবীর কণ্ঠে যখন মক্কার প্রান্তরে তালবিয়ার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হবে, তা হবে তাওহিদের এক চিরন্তন বহিঃপ্রকাশ। এই ভবিষ্যৎবাণী একদিকে যেমন হজের মহিমা প্রচার করে, অন্যদিকে মুমিনের ঈমানকে আরও শক্তিশালী করে।

এমএম