দাম্পত্য ও বিশ্বাসের সংঘাত
নবুয়ত প্রাপ্তির আগেই কুরাইশ বংশের সম্ভ্রান্ত যুবক আবুল আস ইবনে রাবির সঙ্গে যায়নাব (রা.)-এর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসার সুখে কাটছিল। তবে বিপত্তি ঘটে যখন নবীজি (সা.) নবুয়ত লাভ করেন। যায়নাব (রা.) দেরি না করে ইসলাম কবুল করলেও তার স্বামী পুরোনো ধর্ম আঁকড়ে থাকেন। নিজের বাবার ওপর অগাধ বিশ্বাস থেকে যায়নাব (রা.) স্বামীকে সরাসরি বলে দেন, আমি আমার বাবার সত্যবাণী প্রত্যাখ্যান করতে পারি না, কারণ তিনি আল আমিন। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও যায়নাব (রা.) অপরিসীম ধৈর্যের সঙ্গে বছরের পর বছর সংসার করে যান।
বদর যুদ্ধ
ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে কুরাইশদের পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে মুসলমানদের হাতে বন্দি হন আবুল আস। স্বামী বন্দি হওয়ার সংবাদ পেয়ে যায়নাব (রা.) অত্যন্ত ব্যথিত হন। সে সময় যুদ্ধের বন্দিদের মুক্তির জন্য মুক্তিপণ বা ফিদিয়া দেওয়ার নিয়ম ছিল। যায়নাব (রা.) তার স্বামী আসকে মুক্ত করতে মুক্তিপণ হিসেবে নিজের গলার একটি হার পাঠান। এটি সাধারণ কোনো হার ছিল না; এটি ছিল তার মা হজরত খাদিজা (রা.)-এর স্মৃতিচিহ্ন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মুক্তিপণের ভিড়ে প্রয়াত স্ত্রী খাদিজার সেই হারটি দেখলেন, তখন তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি সাহাবীদের সম্মতি নিয়ে হারটি ফিরিয়ে দেন এবং বিনা মুক্তিপণেই তার জামাতাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। সাহাবীরা সানন্দে রাজি হন। তবে নবীজি (সা.) আবুল আসকে শর্ত দেন যে, একজন মুসলিম নারী মুশরিকের সঙ্গে থাকতে পারে না, তাই মক্কায় গিয়েই যেন যায়নাবকে মদিনায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আবু আল আস তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন এবং যায়নাব (রা.) সন্তানদের নিয়ে মদিনায় চলে আসেন।
বিচ্ছেদ ও পুনর্মিলন
দীর্ঘ ছয় বছর স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ছিল। এক পর্যায়ে একটি কাফেলার সঙ্গে যাওয়ার সময় আবুল আস আবারও মুসলমানদের কবলে পড়েন। তবে তিনি পালিয়ে মদিনায় যায়নাব (রা.)-এর কাছে আশ্রয় চান। যায়নাব (রা.) তাকে আশ্রয় দেন।
এরপর মক্কায় ফিরে গিয়ে সবার পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে আবুল আস প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি পুনরায় মদিনায় ফিরে এলে নবীজি (সা.) এই দম্পতির পুনর্মিলন ঘটিয়ে দেন। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই সুখের সময় বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পুনর্মিলনের মাত্র এক বছর পর হযরত যায়নাব (রা.) ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে নবীজি (সা.) গভীরভাবে শোকাহত হন।
এমএম