১. বয়সের সঠিক মানদণ্ড
পশু নির্বাচনের প্রথম শর্তই হলো নির্দিষ্ট বয়স। গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হতে হবে। ছাগল, ভেড়া বা দুম্বার ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে অন্তত এক বছর। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ৬ মাস বয়সের ভেড়া যদি দেখতে ১ বছরের পশুর মতো হৃষ্টপুষ্ট হয়, তবে তা দিয়ে কোরবানি বৈধ হতে পারে।
২. শারীরিক সুস্থতা ও চাঞ্চল্য
কোরবানির পশুটি হতে হবে রোগমুক্ত ও প্রাণবন্ত। পশুর চোখের দৃষ্টি উজ্জ্বল কি না, নাক ভেজা কি না এবং পশুটি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও খাবার গ্রহণ করছে কি না তা যাচাই করে নিন। খুব বেশি দুর্বল বা হাড় জিরজিরে পশু কোরবানি করা উচিত নয়।
৩. দৃশ্যমান ত্রুটিমুক্ত হওয়া
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, পশুর নিখুঁত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। খেয়াল রাখবেন পশুর যেন নিচের ত্রুটিগুলো না থাকে:
অন্ধ বা একচোখা হওয়া।
পঙ্গু বা লেংড়া হওয়া (যা নিজে হেঁটে জবাইয়ের স্থানে যেতে পারে না)।
কান বা লেজের বড় অংশ কাটা থাকা।
শিং মূল থেকে ভেঙে যাওয়া।
৪. সৌন্দর্য ও যত্নে লালিত পশু
কোরবানি হলো প্রিয় ও সেরা জিনিসটি আল্লাহর পথে উৎসর্গ করা। তাই পশুটি যেন দেখতে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন এবং সুস্থভাবে লালিত-পালিত হয়। নিজ যত্নে বড় করা পশুর প্রতি আলাদা মায়া তৈরি হয়, যা কোরবানির ত্যাগের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
শিক্ষণীয় বার্তা:
পশুর হাটে বাবার হাত ধরে যাওয়া সেই ছোট্ট শিশুটি যখন প্রশ্ন করে কেন সেরা পশুটিই নিতে হবে—তখন উত্তর একটাই: "আমরা আল্লাহর জন্য সেরাটাই দিতে চাই।" কোরবানির আসল সৌন্দর্য পশুর মাংসে নয়, বরং এই গভীর আন্তরিকতা ও তাকওয়ার মধ্যেই নিহিত।
সতর্কতা: হাট থেকে পশু কেনার সময় কৃত্রিম উপায়ে স্টেরয়েড দিয়ে মোটা করা পশু পরিহার করুন। প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বড় হওয়া সুস্থ পশু নির্বাচনের মাধ্যমে আপনার কোরবানিকে আরও অর্থবহ করে তুলুন।
এমএম