মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এখন স্মার্টফোনের কোন বিকল্প নেই। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিপ্লব সৃষ্টিকারী এই ডিভাইসটি মানুষের উপকারে এলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাবও কম নয়। বাবা-মা’র স্মার্টফোনে আসক্তি বাচ্চার দুর্ঘটানার কারণ, সম্প্রতি এমন তথ্যই উঠে এসেছে এক গবেষণায়।
ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিরর জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের চাইল্ড অ্যাক্সিডেন্ট প্রিভেনশন ট্রাস্টের চালানো গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশটিতে বাচ্চাদের অধিকাংশ দূর্ঘটনা বা দূর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ার কারণ বাবা-মা’র স্মার্টফোনে আসক্তি। স্মার্টফোনে মনযোগী হওয়ায় বাচ্চার দিকে খেয়াল না করায় এই দূর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে বলে জানানো হয়।
যুক্তরাজ্যের রয়াল কলেজ অফ পেডিয়াট্রিক্সের ডা. রাহুল চোদারহি জানান, দেখা গিয়েছে অন্ততপক্ষে বাচ্চাদের প্রায় এক চতুর্থাংশ দূর্ঘটনাকালীন সময় তার বাবা-মা স্মার্টফোন নিয়ে ব্যাস্ত ছিলেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনটিও বলা হয়েছে, দুই তৃতীয়াংশ ব্রিটিশ নাগরিক ঘুম থেকে ওঠার পাঁচ মিনিটের মধ্যে মোবাইলফোন চেক করেন।
"দূর্ঘটনা সাধারণত তখনই ঘটে, যখন আমরা অমনযোগী থাকি এবং এক্ষেত্রে মোবাইলফোনে আসক্তির কারণটি দিনদিন বাড়ছে। বাচ্চা যখন রাস্তা পার হয় বা গরম পানির বোতল ধরে তখন তার বাবা-মা এসএমএস নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন।", বলেন, ডা. চোদারহি।
তিনি আরও বলেন, "একটি দূর্ঘটনা ঘটতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে। তাই আমি বাবা-মা এবং কিশোরদেরকে অভ্যাস বদলানোর পরামর্শ দেই।"
১০০০ জন বাবা-মার উপর গবেষণাটি চালিয়েছে চাইল্ড অ্যাক্সিডেন্ট প্রিভেনশন ট্রাষ্ট। সংস্থাটির কর্মকর্তা ক্যাটরিনা ফিলিপস বলেন, "বাবা-মার জন্য চাপের মধ্যে মোবাইলফোন অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি। এর মাধ্যমে তারা কেনাকাটা করতে পারে, পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে এবং বাচ্চাদেরকে বিনোদন দিতে পারেন।"
এফএফ





