রোমিং চার্জ থেকে রেহাই পেতে দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় এক-চতুর্থাংশের বেশি ইউরোপীয় ফোন বন্ধ রাখেন। বিদেশ ভ্রমণের সময় ৪৭ শতাংশ ইউরোপীয় তাদের মোবাইল ডিভাইসে ইন্টারনেটও ব্যবহার করেন না। ইউরোপিয়ান কমিশন (ইসি) তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। খবর বিবিসির।
বিদেশ ভ্রমণের সময় রোমিং সেবা গ্রাহকদের যোগাযোগকে অনেকটা সহজ করে দেয়। কিন্তু ইউরোপিয়ান কমিশনের জরিপ অনুযায়ী এ সেবা থেকে অনেকটাই বিমুখ ইউরোপের বাসিন্দারা। তারা বিদেশ ভ্রমণের সময় বেশির ভাগ সময়ই সেলফোন বন্ধ রাখেন।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মোট ১৩ হাজার ২৮৫ জন নাগরিকের ওপর জরিপ পরিচালনা করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের এক-চতুর্থাংশের বেশি ইউরোপীয় জানান, ভ্রমণ অবস্থায় তারা তাদের সেলফোনটি বন্ধ রাখেন।
রোমিং সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের ব্যবহূত নেটওয়ার্কের বাইরে গিয়েও টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যবহার করতে পারেন। কোনো গ্রাহক যদি তার দেশ ছাড়িয়ে অন্য কোনো দেশে গিয়ে একই সিম কার্ডের মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে চান, তবে তাকে অবশ্যই রোমিং সেবা ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে গ্রাহক যে স্থানে থাকবেন, তার আশপাশের কোনো নেটওয়ার্ক তিনি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এ জন্য তাকে সাধারণের চেয়ে তুলনামূলক বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
এ ধরনের খরচ হ্রাসের জন্যই ইউরোপীয়রা ভ্রমণ অবস্থায় তাদের ফোন বন্ধ রাখেন। এ ধরনের প্রবণতার কারণে ইউরোপের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। এ বিশাল পরিমাণ গ্রাহকের ফোন বন্ধ রাখার ঘটনায় অনেকটাই অবাক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান কমিশনের (ইসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট নিলি ক্রোয়েস। তিনি বলেন, ‘রোমিং চার্জ হ্রাস করার কারণে এ বিশালসংখ্যক ইউরোপীয়র ফোন বন্ধ রাখার ঘটনায় আমি অনেকটাই আশ্চর্য হয়েছি। এ ধরনের প্রবণতার কারণে গ্রাহকদের বিনামূল্যে রোমিং সেবা দেয়ার ব্যাপারটিও সামনে চলে আসছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকদের এ ধরনের প্রবণতার ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ইউরোপের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। একদিকে বিশ্বজুড়ে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো ফোরজির মতো উচ্চগতির নেটওয়ার্ক সরবরাহের চিন্তা করছে, অন্যদিকে গ্রাহকরা তাদের ব্যয় কমাতে রোমিং সেবা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ ধরনের প্রবণতা টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদত্ত সেবার ধরন পরিবর্তনে চিন্তা করতে বাধ্য করবে।
তবে টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মেথিও হোয়েত বলছেন অন্য কথা। তার মতে, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো রোমিং চার্জ বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে খুব বেশি অর্থ কেটে রাখছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষে বহন করা অনেকাংশে সম্ভব না। তিনি বলেন, ভ্রমণ অবস্থায় ইউরোপীয়দের এ ধরনের ফোন বন্ধ রাখার প্রবণতায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। গ্রাহকরা যখন দেশের বাইরে তার সেলফোনটি ব্যবহার করেন, তখন তাকে বড় অঙ্কের বিল পরিশোধ করতে হয়।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মতো দেশের গ্রাহকদের মধ্যেও ভ্রমণে সময় ফোন বন্ধ রাখার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এক্ষেত্রে দেশটির ৩৭ শতাংশ নাগরিক তাদের সেলফোন বন্ধ রাখেন।
ইউরোপের দেশগুলোয় ভ্রমণ অবস্থায়ও এ অঞ্চলের গ্রাহকরা তাদের ফোন বন্ধ রাখেন ও ইন্টারনেট যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করেন। এ সময় গ্রাহকদের ৯৪ শতাংশই ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো ব্যবহার করেন না। এক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ মানুষ তাদের ফোন কলের পরিমাণ কমিয়ে দেন।
এ ধরনের প্রবণতা শুধু যে টেলিযোগাযোগ খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে তা নয়। এটি অ্যাপ নির্মাতা ও ট্রাভেল গাইডের আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, রোমিং চার্জ বাবদ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো একটু বেশি অর্থ সংগ্রহ করছে। ইসি এর আগে ইউরোপে ভ্রমণ অবস্থায় নিজেদের গ্রাহকদের রোমিং চার্জ হ্রাস করার জন্য টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দেয়।
গত সেপ্টেম্বরে কমিশন ইউরোপে ভ্রমণ অবস্থায় এ অঞ্চলের গ্রাহকদের রোমিং চার্জের পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে জানায়। কিন্তু যুক্তরাজ্যের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এ ধরনের প্রস্তাবকে বড় ধরনের ভুল বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত অবকাঠামো তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় রোমিং চার্জ না নেয়া বা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে এ খাতে আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে বলেও জানায় যুক্তরাজ্যের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকদের মতে, রোমিং চার্জের পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব না হলেও কমিয়ে আনা উচিত। এতে গ্রাহকদের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণের সময় সেলফোন ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পেতে পারে, যা এ খাতের জন্য সামগ্রিকভাবে কল্যাণকর হবে।
[b]ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ[/b]
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
রোমিং চার্জ থেকে বাঁচতে ফোন বন্ধ রাখেন ইউরোপীয়রা
রোমিং চার্জ থেকে রেহাই পেতে দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় এক-চতুর্থাংশের বেশি ইউরোপীয় ফোন বন্ধ রাখেন। বিদেশ ভ্রমণের সময় ৪৭ শতাংশ ইউরোপীয় তাদের মোবাইল ডিভাইসে ইন্টারনেটও ব্যবহার করে না। ইউরোপিয়ান কমিশন (ইসি) তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। খবর বিবিসির। বিদেশ ভ্রমণের সময় রোমিং সেবা গ্রাহকদের যোগাযোগকে অনেকটা সহজ করে দেয়। কিন্তু ইউরোপিয়ান কমিশনের জরিপ অনুযায়ী এ সেবা থেকে অনেকটাই বিমুখ ইউরোপের বাসিন্দারা। তারা বিদেশ ভ্রমণের সময় বেশির ভাগ সময়ই সেলফোন বন্ধ রাখেন।





