কম্পিউটারকে মানবমস্তিষ্কের সাথে তুলনা করার বিষয়টি নতুন নয়। তবে কম্পিউটারের সাথে মানুষের মস্তিষ্কের গঠনের বড় একটি পার্থক্য রয়েছে। মস্তিষ্কের গঠনে মূল ভূমিকা মূলত কার্বনের। অন্যদিকে কম্পিউটার গঠনের মূলে রয়েছে সিলিকন। এই পার্থক্য দূর করে কার্বন কম্পিউটার তৈরির পরিকল্পনা বিজ্ঞানীদের অনেক দিনের।
তবে ব্যবহারিক নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা একে সুদূর পরাহত করে রেখেছে। তবে সেই দিনের অবসান বুঝি হবে শীঘ্রই। তেমনটিই জানিয়েছে শতবর্ষী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম। ২০২০ সালের মধ্যেই কার্বন কম্পিউটার তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে তারা, যদিও বিজ্ঞানীরা তাদের এই পরিকল্পনাকে অনেক বেশি আশাবাদ নির্ভর বলেই অভিহিত করছেন।
কার্বন কম্পিউটার তৈরি করতে গেলে এর মূলে থাকবে কার্বন ন্যানোটিউব। সিলিকন চিপের তুলনায় কার্বন ন্যানোটিউব চিপ অনেক বেশি গতিশীল হলেও বাণিজ্যিকভাবে এগুলোর উত্পাদনে অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে করে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সিলিকন চিপ ৪ ন্যানোমিটারের মধ্যে চলে আসবে বলে জানিয়েছে আইবিএম। এর মাধ্যমেই আসলে সিলিকন যুগের অবসান ঘটবে।
আর সেখানেই নতুন প্রযুক্তির বাহন হিসেবে কার্বন ন্যানোটিউব জায়গা দখল করে নেবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে ইতোমধ্যেই আইবিএম নিজেও কার্বন ন্যানোটিউব তৈরির কাজ শুরু করেছে। খুব দ্রুতই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও কার্বন ন্যানোটিউবে আগ্রহী হয়ে উঠবে বলেই আশা করছে আইবিএম। আইবিএম আরও আশা করছে, অন্যরা না পারলেও তারা নিজেরাই ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন ন্যানোটিউবকে ব্যয়সাশ্রয়ী করে বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত করতে সমর্থ হবে।
আর সেটা পারলে কার্বন কম্পিউটার তৈরি অসম্ভব হবে না বলেই জানিয়েছে আইবিএম। এখনকার কম্পিউটারগুলোর তুলনায় কার্বন কম্পিউটারের বড় পার্থক্য হবে এর কর্মপদ্ধতি এবং কর্মক্ষমতায়। মানুষের মস্তিষ্কের অনুরূপ পদ্ধতিতে কাজ করতে পারবে কার্বন কম্পিউটার। আর এর কর্মক্ষমতা এখনকার কম্পিউটারের তুলনায় হবে বহুগুণ। ফলে কার্বন কম্পিউটার মূলত প্রযুক্তিবিশ্বে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
ঢাকা, ৬ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





