ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে মহাবিশ্ব। প্রায় দুই লক্ষ নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছেছে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল। তারা জানিয়েছেন, ২০০ কোটি বছরের আগের তুলনায় মাত্র অর্ধেক অবশিষ্ট রয়েছে এই মহাবিশ্বের। তবে এখনই আতঙ্কিত হয়ে পড়ার কিছু নেই।

মহাবিশ্বের আয়ূ এখনও প্রায় ১০০ কোটি বছর।পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ইন্টার ন্যাশনাল সেন্টার ফর রেডিও অ্যাস্ট্রোনমি রিসার্চ (আইসিআরএআর)-এর গবেষকরা এ কথা জানিয়েছেন।

আইসিআরএআর-এ অধ্যাপক সিমোন ড্রাইভার জানিয়েছেন, দুই লক্ষেরও বেশি নক্ষত্রপুঞ্জের শক্তির নির্গমন পরিমাপের জন্য এ ক্ষেত্রে মহাকাশ ও পৃথিবীতে থাকা টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হয়েছে।ওই নক্ষত্রপুঞ্জগুলি থেকে একটি তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সম্ভাব্য শক্তি নির্গমন পরিমাপের জন্য যতগুলি সম্ভব বেশি টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হয়েছে।

অতি বেগুনি রশ্মি থেকে ইনফ্রারেড- ২১ টি তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শক্তির পরিমাপ নেওয়া হয়েছে। এই তথ্য বিভিন্ন ধরনের নক্ষত্রপুঞ্জ গঠনের বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মহাবিশ্বে বিগ ব্যাং শক্তির উত্স। এই শক্তির কিছু অংশ পদার্থে পরিণত হয়েছিল।ওই পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার ফলেই তারাগুলি থেকে আলো নির্গত হয়।এই বিষয়টি নিয়েই আইনস্টাইনের বিখ্যাত সমীকরণ, ই=এমসি২।

অধ্যাপক ড্রাইভার জানিয়েছেন, বিগ ব্যাংয়ের পর যে শক্তি নির্গত হয়েছিল তা রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত শক্তি এখন তারাগুলি নির্গমন করে চলেছে।

নতুন করে এই যে শক্তি নির্গত হচ্ছে তা হয় ধুলো শুষে নেয় অথবা তা সংশ্লিষ্ট নক্ষত্রপুঞ্জে ঘুরে বেড়ায় অথবা দুই নক্ষত্রপুঞ্জের মাঝের মহাকাশে চলে আসে। অন্য গ্রহ, তারা বা কখনও সখনও টেলিস্কোপ মিররে না এসে পড়া পর্যন্ত ওই শক্তির যাত্রা বন্ধ হয় না।

মহাবিশ্ব যে ধীরে ধীরে ম্লান হচ্ছে তা ১৯৯০-এর দশকেই জানা গিয়েছিল। আইসিআরএআর-এর গবেষণায় সেই বিষয়টিই আরও স্পষ্ট হল। সূত্র: এপিবি আনন্দ।

ইআর