ভালো মানের প্রযুক্তি পণ্য মানেই, সেটা দামী। এর মধ্যে আবার কিছু প্রযুক্তি পণ্য এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেগুলো অভাবনীয় দামী। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০টি গ্যাজেট নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আইফোন ৫ ব্ল্যাক ডায়মন্ড : এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্মার্টফোন হিসেবে পরিচিত। এর দাম ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১১৭ কোটি টাকা। আইফোন ৫ ব্ল্যাক ডায়মন্ড স্মার্টফোনটিতে ১৩৫ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ ব্যবহৃত হয়েছে। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ৯ সপ্তাহ। এর গোটা শরীর জুড়ে বসানো রয়েছে ৬০০টি সাদা হীরকখন্ড। ফোনের পেছন দিকে অ্যাপলের যে লোগোটি রয়েছে, সেটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫৩টি হীরকখন্ড। ফোনটির ডিসপ্লেতে ব্যবহার করা হয়েছে স্যাফায়ার।
এছাড়া বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আইফোনের হোম বাটনের স্থলে এতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ২৬ ক্যারেট ওজনের কালো হীরক। বিলাসবহুল পণ্যের বিশ্বখ্যাত ডিজাইনার স্টুয়ার্ট হিউজ তৈরি করেন এই ফোনটি। আইফোন ৫ ব্ল্যাক ডায়মন্ড স্মার্টফোনটি বর্তমানে একজন চীনা ব্যবসায়ী ব্যবহার করছেন।
আইপ্যাড ২ গোল্ড হিস্টোরি এডিশন : আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে ইতিহাস হয়ে যাওয়া উপকরণের সমন্বয়ে তৈরি এই ট্যাবলেট পিসিটি। আইপ্যাড ২ গোল্ড হিস্টোরি এডিশনের বডি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগের ডাইনোসর টি-রেক্সের হাড়ের অবশেষ। শুধু তাই নয়, ট্যাবলেটটির ফ্রন্ট ফ্রেমে ব্যবহার করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো শিলা হিসেবে পরিচিত অ্যাম্মোটাইল, যা প্রায় ৭৫ মিলিয়ন বছর আগের। এছাড়া এই ট্যাবলেটিতে ৫৩টি হীরা এবং লোগো তৈরিতে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়েছে। এটিও তৈরি করেন বিলাসবহুল পণ্যের ডিজাইনার স্টুয়ার্ট হিউজ। এরকম মাত্র দুইটি আইপ্যাড তৈরি করেন হিউজ, প্রতিটির দাম রাখা হয় ৭.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ৬০ কোটি টাকারও বেশি।
হার্ট অডিও ডিঅ্যান্ডডাব্লিউ অরাল প্লেজার লাউডস্পিকার : এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দামি স্পিকার। এই অরাল প্লেজার রেঞ্জের স্পিকারটি ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণে দিয়ে তৈরি করেছে হার্ড অডিও। এরকম মাত্র এক জোড়া স্পিকারই তৈরি করা হয়। দাম রাখা হয় ৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৪০ কোটি টাকার সমান। এছাড়া রূপা দিয়েও পাঁচ জোড়া স্পিকার তৈরি করে হার্ট অডিও, যার প্রতি জোড়ার দাম রাখা হয় ৩ লক্ষ ১৫ হাজার ডলার।

ক্যামেল ডায়মন্ড আইপ্যাড : এই ট্যাবলেট পিসিটি ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণে তৈরি করা হয়। স্বর্ণের পাশাপাশি এতে পেছন দিকে ৩০০ ক্যারেটের হীরা ব্যবহার করা হয়। এছাড়া হোম বাটন আর অ্যাপল লোগোতে ব্যবহার করা হয় কালো হীরক। এটি তৈরি করে ক্যামেল লন্ডন। দাম রাখা হয় ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ম্যাকবুক এয়ার সুপ্রিম প্ল্যাটিনাম এডিশন : অ্যাপলের ম্যাকবুক এয়ারের সুপ্রিম প্লাটিনাম এডিশন ল্যাপটপটি বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল প্লাটিনাম ধাতুর প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হয়। ওজন ৭ কেজি। এটিও তৈরি করেছে বিলাসবহুল পণ্যের ডিজাইনার স্টুয়ার্ট হিউজ। শৌখিন মানুষদের জন্য এরকম ৫টি ল্যাপটপ তৈরি করা হয়। যার প্রতিটির দাম রাখা হয় ৫ লাখ মার্কিন ডলার।
নিন্টেনডো উইই সুপ্রিম : কনসোল নির্মাতা নিন্টেনডো উইই কনসোলটির একটি বিশেষ সংস্করণ, যা ২২ ক্যারেট স্বর্ণ দিয়ে তৈরি। এর সামনের বাটনসমূহ ৭৮টি ১৯ ক্যারেটের হীরকখন্ডে তৈরি। এরকম মাত্র ৩টি কনসোল তৈরি করা হয়, দাম রাখা হয় ৪,৯৭,৩০০ মার্কিন ডলার।
সনি প্লে-স্টেশন ৩ সুপ্রিম : গেমিং কনসোল হিসেবে বরাবরই জনপ্রিয় সনি প্লে-স্টেশন। আর প্লে-স্টেশন এরই পুরনো ভারসন হিসেবে বিলাসবহুল পণ্যের ডিজাইনার স্টুয়ার্ট হিউজ ডিজাইন করেন সনি প্লে-স্টেশন ৩ সুপ্রিম। ২২ ক্যারেট স্বর্ণ দিয়ে তৈরি ১.৬ কেজি ওজনের এই গ্যাজেটের মূল্য রাখা হয় ৩,৩১,৫০০ মার্কিন ডলার । এছাড়া এর হীরকখচিত ডিস্কস্লটটিতে ৫৮টি ২২ ক্যারেটের হীরকখন্ড ব্যবহার করা হয়।
স্টেয়িনওয়ে লিঞ্জড্রফ মডেল এলএস কনসার্ট স্পিকার : বাসার মধ্যে কনসার্টের আমেজ দিতে সক্ষম স্টেয়িনওয়ে লিঞ্জড্রফ মডেল এলএস কনসার্ট স্পিকার। দাম রাখা হয় ২,৫০,০০০ মার্কিন ডলার। স্পিকারটির এত দামের কারণ হচ্ছে এটি ২৪ ক্যারেট স্বর্ণে তৈরি। স্পিকারটি উচ্চতায় ৮ ফুট লম্বা ও প্রস্থে ১৬ ইঞ্চি চওড়া।
ডায়মন্ড ব্যাকবেরি অ্যামোসু কার্ভ : ব্যয়বহুল স্মার্টফোনে পিছিয়ে নেই ব্ল্যাকবেরিও। ব্ল্যাকবেরি কার্ভ ৮৯০০ মডেলের ফোনের লিমিটেড এডিশন স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হয় মোট ৪৪৫৯টি হীরকখন্ড। এছাড়া এর পুরো শরীর ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণে আবৃত। ব্ল্যাকবেরির এরকম ৩টি স্মার্টফোন তৈরি করে বৃটিশ বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা আলেকজান্ডার অ্যামোসু কার্ভ। প্রতিটি কিনতে শৌখিনদের খরচ পড়ে ২,৪০,০০০ মার্কিন ডলার।
গোল্ড আইপ্যাড সুপ্রিম : অধিক মূল্য হওয়ার কারণে যারা হীরকখচিত আইপ্যাড কিনতে পারেনি তাদের জন্যই এই স্বর্ণের আইপ্যাড তৈরি করা হয়। এতে ২.১ কেজি ওজনের ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এর পেছনে অ্যাপলের লোগোটিতে ব্যবহার করা হয় ২২ ক্যারেটের ৫৩টি হীরকখন্ড। গোল্ড আইপ্যাড সুপ্রিম মডেলের ১০টি ট্যাবলেট তৈরি করা হয়, যার প্রতিটির দাম রাখা হয় ১,৯০,০০০ মার্কিন ডলার।
ঢাকা, ৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





