শুধুমাত্র মেট্রো স্টেশনের ছবি তোলাটা যদি কারো পেশা নয়, নেশা হয়? অথচ সেই ছবিগুলো ইন্টারনেটে উঠলে হাজার হাজার মানুষ তা ফলো করেন। এটাকে কি একটা বিশেষ ধরনের ফটোগ্রাফি বলা চলতে পারে? এ ধরনের একজন আলোকচিত্র শিল্পীকে মেট্রো ফটোগ্রাফার বলায় কোনো দোষ নেই।
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের মেট্রো স্টেশনগুলো দেখলে মনে হবে যেন বড় বড় গুহা। আলেক্সান্ডার দ্রাগুনভ-এর কাছে এ ধরনের মেট্রো স্টেশন যেন একটা কল্পলোক। যে শহরেই তিনি যান, তিনি মেট্রো স্টেশনগুলোর ছবি তোলেন। গত ছয় বছর ধরে তিনি স্টকহোমে বাস করছেন।
রাগুনভ বলেন, মেট্রো স্টেশনে গিয়ে নিঃসঙ্গতা উপলব্ধি করা যায়, নিজের গলার আওয়াজ আর তার প্রতিধ্বনি উপভোগ করা যায়। কোনো জায়গার অনুভূতিটাই আমার কাছে আসল। আবার স্টেশনটা ফাঁকা থাকলে ছবি তোলাও সহজ। কেউ তোমাকে জ্বালাতন করবে না। নিজের মর্জি মতো কাজ করতে পারবে। যেকোনো অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তুলতে পারবে।
স্টকহোমে সন্ধ্যা নেমেছে, শহরের অধিকাংশ বাসিন্দা বাড়ি চলে গেছেন। ঠিক তখন ৩৫ বছর বয়সী দ্রাগুনভ বেরোন ছবি তুলতে, যদিও তিনি অর্থোপার্জন করেন প্রোগ্রামার হিসেবে। ফটোগ্রাফি তাঁর নেশা। কিন্তু তাঁর তোলা এই সব মেট্রো স্টেশনের ছবি যখন ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়, তখন তারা এতো ক্লিক পায়, যেন তারা কোনো পেশাদারি ফটোগ্রাফারের কাজ। এ কাজে আবার দ্রাগুনভ একা নন, ইনস্টাগ্রাম কিংবা ফ্লিকার-এ তাঁর অনেক সমব্যথী অনুরূপভাবে ছবি আপলোড করে থাকেন। যেমন লন্ডনের মিসআন্ডারগ্রাউন্ড।
.jpg)
লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের সুড়ঙ্গ ও চলন্ত সিঁড়ির যে সব ছবি মিসআন্ডারগ্রাউন্ড পোস্ট করেন, সেগুলো ফলো করেন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। ছবিগুলো তোলা হয় স্মার্টফোন দিয়ে। ইনস্টাগ্রাম-এ মিউনিখ আন্ডারগ্রাউন্ডেরও ছবি পাওয়া যাবে, শহরের মেট্রো স্টেশনগুলো ছবির মোটিফ হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। আদতে দ্রাগুনভের জন্ম রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে। রাজধানী মস্কোর মেট্রো স্টেশনগুলো তো প্রায় কিংবদন্তির সমান, সেগুলোর ছবি তোলার জন্য ফটোগ্রাফাররা আসেন বিশ্বের নানা দেশ থেকে। সুইডেনের রাজধানীর পাতালপুরী, হয়তো খানিকটা দ্রাগুনভের কল্যাণেই, ক্রমেই আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
রাডুসেট স্টেশন। গুহা মেট্রো স্টেশন বলে পরিচিত এই স্টেশনগুলি দ্রাগুনভের বিশেষভাবে পছন্দ। এখানে গ্রানাইট পাথরকে কংক্রিট দিয়ে মুড়ে একটা গুহার রূপ দেওয়া হয়েছে। তথাকথিত ব্লু লাইনের এই গুহা মেট্রো স্টেশনগুলি সত্তরের দশকে তৈরি হয়। সর্বাঙ্গসুন্দর ছবির জন্য মেট্রো স্টেশনটি পুরোপুরি জনশূন্য হওয়া চাই। রাত্রে সেটা ঘটার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। তবুও দ্রাগুনভকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হয়।
.jpg)
স্টকহোমের অধিকাংশ মেট্রো স্টেশন আধুনিক ভাস্কর্য, চিত্রকলা কিংবা ইনস্টলেশন দিয়ে সাজানো। স্টকহোমের মেট্রোকে বিশ্বের দীর্ঘতম আর্ট গ্যালারি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। দ্রাগুনভের ছবিতেও এই মেট্রো আর্ট স্থান পায়, কিন্তু গুরুত্ব পায় না গুরুত্ব পায় রেখা ও আলোর ভারসাম্য। দ্রাগুনভের ছবিগুলোকে অ্যামেচার ফটোগ্রাফি বললে ভুল করা হবে। তাঁর সেরা ছবিগুলির সংকলন ছাপা হয়েছে। সে জন্য তিনি বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে বারংবার মাটির তলায় নেমেছেন ও ছবি তুলেছেন।
দ্রাগুনভ বলেন, ছবি তোলা শিখতে অনেক দিন সময় লেগেছে। বহুবার ক্যামেরা বদল করেছি, লেন্স বদল করেছি। শেষমেষ উপলব্ধি করলাম, ভালো ছবি তুলতে হলে যতদূর সম্ভব ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স ব্যবহার করা প্রয়োজন। স্টকহোমের মেট্রোয় ছবি তোলার কাজ শেষ করেছেন আলেক্সান্ডার দ্রাগুনভ। এবার তিনি চান মিউনিখ এবং লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ডে ছবি তুলতে। মেট্রোর মজাই হলো তাই, কোনো দুটো শহরের মেট্রো এক নয়।
ঢাকা, ৮ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





