ব্রাজিলে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে আলোচনার নতুন বিষয় হিসেবে যুক্ত হয়েছে তাপমাত্রা। গ্রীষ্মের খর তাপে ব্রাজিলে তীব্র তাপ মাত্রার কারণে ব্যহত হচ্ছে খেলার স্বাভাবিকতা। যে কারণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেখানে প্রথমবারের মত চালু করা হয়েছে ‘কুলিং ব্রেক’ (পানি পান বিরতি)।
ব্রাজিল বিশ্বকাপের এই তাপমাত্রার কারণে তাই সবার আলোচনায় ঘুরে ফিরে আসছে কাতার বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে এই জুনের গ্রীস্মকালে তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতার বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পাচ্ছে। তবে তাদের ওই চিন্তার ওপর ঠান্ডা প্রলেপ লেপন করে দিয়েছে কাতারী কর্তৃপক্ষ। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের এই আয়োজক দেশটি রাজধানী দোহার কাতেরা ফ্যান জোনে পরীক্ষামুলকভাবে মুক্ত স্থানে কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফল হয়েছে।
শনিবার রাতে ব্রাজিল বনাম কলম্বিয়ার মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি যখন শুরু হয় তখন কাতারের স্থানীয় সময় ছিল ৭টা। এসময় কাতেরা ফ্যান জোনের বাইরের তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে ভেতরের তাপমাত্রা নামিয়ে আনা হয় ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে।
এসপায়ার জোনের সহায়তায় প্রস্তুতকৃত এই প্রযুক্তিতে সুনির্দ্দিষ্ট স্থানে চারটি কুলিং স্থম্ভ স্থাপন করা হয়। যে গুলো ফ্যানজোন গুলোকে শীতল রাখতে সহায়তা করে।
প্রশিক্ষন মাঠ শীতল রাখার জন্যও কুলিং প্রযুক্তির উন্নয়ন করতে যাচ্ছে এসপায়ার জোন।
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ দেখার জন্য প্রস্তুতকৃত ফ্যান জোনটির ধারন ক্ষমতা ১৫০০ জনের। যেখানে মধ্য প্রাচ্যের সর্ববৃহৎ আউটডোর ভিডিও পর্দা স্থাপন করা হয়েছে।
এখন তাদের বিজ্ঞনীদের পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে জ্বালানী সাশ্রয়ের উপায় বের করা এবং পরিবেশ বান্ধব এই প্রযুক্তিকে ফুটবল সংক্রান্ত কার্যক্রমের বাইরে ছড়িয়ে দেয়া।
টুর্ণামেন্ট আয়োজক কমিটির ভেন্যু পরিচালক ঘানিম আল খুয়ারি বলেন,‘ এই প্রযুক্তিকে বাস্তব সম্মত করার জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। কাতার এখন প্রমান করেছে যে আমরা শীতল ফুটবল স্টেডিয়াম উপহার দিতে পারব। এখন আমাদের পরবর্তী ধাপে রয়েছে উন্মুক্ত পাবলিক প্লেস শীতলীকরণ কাজে আমাদের এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা।’
সমর্থকরা সমবেত হবে এমন বিশাল আকারের পাবলিক প্লেস শীতলীকরনে একবার যদি এই প্রযুক্তিকে সফলভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ শীতকালে হবে? নাকি গ্রীষ্মকালে হবে, সেই বিতর্কের অবসান ঘটবে।
ঢাকা, ৫ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





