রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম এমন ড্রোন তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে নবম শ্রেণীর ছাত্র সেখ নাঈম হাসান মুন। ১৪ বছরের কিশোরের আলোচিত এ আবিষ্কার স্কুল, জেলা ও বিভাগীয়পর্যায়ে পুরস্কৃত হওয়ার পর জাতীয়পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে।

৩০০ ফুট পর্যন্ত উপরে উঠতে পারে চার পাখার উড়ন্ত এ যানটি। আর ৫০০ ফুট দূর থেকে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। উড়ন্ত অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে রাডার ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যেতে পারে কাক্সিত লক্ষে। এমনকি মেঘের উপরে উঠে মেঘের ছবি তুলতেও সক্ষম এ ড্রোন। এমন বিশেষায়িত ড্রোন তৈরি করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র সেখ নাঈম হাসান মুন।

স্কুলে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায় ৭০০ জনের মধ্যে প্রথম হয় নাঈমের প্রযুক্তি। এরপর জেলাপর্যায়ে আায়োজিত ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় নিজের তৈরি এ ড্রোনটি প্রদর্শন করে শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তার পুরস্কার জিতে নেয় সে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন এ মেলার আয়োজন করে। গত ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি যশোর জিলা স্কুলে আয়োজিত তিন দিন ব্যাপী ৩৭তম জাতীয় বিজ্ঞান মেলায়ও প্রথম স্থান দখল করে নাঈমের ড্রোন। গত বছর এনএইচএসপিসি ২০১৫ সফটওয়্যার প্রোগ্রামিংয়ে বিভাগীয়পর্যায়ে খুলনা থেকে প্রথম স্থানে উন্নীত হয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত জাতীয়পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করে এ খুদে প্রযুক্তিবিজ্ঞানী। সেখ রাজেক জাহাঙ্গীর ও হাসনা জাহাঙ্গীর দম্পতির একমাত্র সন্তান নাঈম। জাহাঙ্গীর যশোরের স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজের বার্তা সম্পাদক। তিনি জানান, তার ছেলে যখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র তখন থেকেই পদার্থবিজ্ঞানের বই পড়ত। সময় পেলেই অনলাইনে গিয়ে গবেষণার উপকরণ সংগ্রহ করত। এরপর ড্রোন আবিষ্কারের মনোনিবেশ করে নাঈম।

পিএসসি ও জেএসসি উভয় পরীক্ষায়ই জিপিএ ৫ পেয়েছে নাঈম।

ড্রোন তৈরি সম্পর্কে সে জানায়, গত বছর শুনেছিলাম চায়না ৩০ লাখ ড্রোন তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তখনই স্বপ্ন বুনতে শুরু করি। এ সময় গুগলে ফিউচার টেকনলোজি ২০৩০ সার্চ দিই। চারটি পাখা। ভেসে বেড়ায়। আমিও যেন ওই পাখার সাথে ভেসে গেলাম। এর পর স্কুলের পাঠের পাশাপাশি অবসরে টানা সাড়ে পাঁচ মাস গবেষণা শেষে আরো সাড়ে তিন মাস প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রোটোটাইপ ড্রোনটি তৈরি করি। আর এটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৪৭ হাজার ৪০০ টাকার মতো। নতুন জামা, টিফিনের টাকা, ঈদের বখশিশ আর বাবা-মায়ের কাছ থেকে এ টাকার সংস্থান হয়েছে।

নাঈম জানিয়েছে, ড্রোনটিতে দুটি ট্রান্সমিটার ও ২.৪ গিগাহার্জ গতির দুটি প্রসেসর রয়েছে। প্রসেসরকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৩টি প্রোগ্রামিং কোড। এ জন্য তাকে সিওএইচ সফটওয়্যার দিয়ে তিন হাজার ৩৩৭ পৃষ্ঠার কোডিং লিখতে হয়েছে। তার ভাষায়, সরকারি সহায়তা পেলে মাত্র পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ভালো ড্রোন নির্মাণ করা সম্ভব। তখন দুর্যোগের সময় দুর্গম এলাকার তিন কিলোমিটার দূরত্বে ৫০০ গ্রাম ওজন পর্যন্ত জরুরি ওষুধ পরিবহন, লাইভ ভিডিও ও মেঘের ছবি পর্যন্ত তোলা সম্ভব হবে। জিপিএস পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করে মুঠোফোন দিয়েও ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এমএম