প্রকৃতি থেকেই নতুন নতুন ড্রোন প্রযুক্তির ধারণা পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। পাখি, বাদুড় আর পোকামাকড় থেকে শিখছেন উড্ডয়নের নতুন সব কৌশল।
ড্রোনের কথাতো আমরা সবাই জানি। এটা একটি বিমানের মতো। সহজ কথায় ড্রোন হচ্ছে উড়ন্ত একটা রোবট। দূর নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের সাহায্যে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের সময় এটা সবচে বেশি আলোচনায় এসেছে।
এই ড্রোনের সাহায্যে লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বোমা ফেলার কাজে এই ড্রোন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এখন আরো নানা উদ্দেশ্যে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
অনলাইন-ভিত্তিক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন এই ড্রোনের সাহায্যে পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা করছে। ধরুন, আপনি হয়তো অ্যামাজন থেকে একটা বই কিনলেন, তারপর সেটা ডাকযোগে বহু দেশ বহু পথ পাড়ি দিয়ে আপনার কাছে এসে পৌছালো।
একজন ডাকপিয়ন দরজার নিচ দিয়ে আপনার ঘরে পৌঁছে দিলো সেই বই। কিন্তু এখন আর ডাকপিয়নের প্রয়োজন নেই। ছোট একটা ড্রোন, আকাশ পথে উড়ে এসে আপনার কেনা সেই বই, পৌঁছে দেবে আপনার হাতে। [img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201406/1401691707.jpg[/img]
এখন এটা আর শুধু পরিকল্পনাতেই সীমিত নেই। সম্প্রতি ভারতের মুম্বাই শহরেও এই ড্রোনের সাহায্যে পিৎজা ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন প্রজন্মের অর্থাৎ অত্যাধুনিক ড্রোন তৈরির নানা রকমের গবেষণা চলছে।
আর এই গবেষণা কাজে বিজ্ঞানীরা ক্লু পাচ্ছেন আমাদের আশেপাশের প্রকৃতি থেকে। সামরিক নজরদারির বাইরেও এই ড্রোনকে এখন অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। হয়তো কোথায় ভূমিকম্প হলো। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা লোকজন খুঁজতে, তাদের কাছে ত্রাণ-সাহায্য পাঠাতে, এমনকি তাদের উদ্ধার কাজেও এই ড্রোন ব্যবহারের করা যেতে পারে।
বায়ো-ইন্সপিরিশেন এন্ড বায়োমেট্রিকস- এই বিজ্ঞান জর্নালে সম্প্রতি ড্রোন বিষয়ক নতুন কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের চৌদ্দটি দল এই গবেষণা চালিয়েছেন যারা নানা ধরনের ড্রোনের কথা বলছেন।
একটিতে হয়তো পাখির মতো ছো মেরে কোন জিনিস ছিনিয়ে নেয়ার প্রযুক্তি আছে, আবার কোন রোবট হয়তো পাখি কিম্বা মাছের মতো দলবেঁধে ঝাঁকে ঝাঁকে চলতে পারে। পাখি, বাদুড়, পোকামাকড়, এমনকি যেসব সাপ উড়তে পারে সেসব প্রাণী থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই বিজ্ঞানীরা এসব ড্রোনের নকশা তৈরির গবেষণা করছেন।
গবেষণায় দেখানো হয়েছে কিভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব হতে পারে। যেসব প্রাণী উড়তে পারে তারা সেই কঠিন কাজটা কিভাবে সম্ভব করেছে- তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিজ্ঞানীরা তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে- বাতাসের প্রচণ্ড ঘূর্ণির মধ্যেও ছোট্ট একটা পোকা কিভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে উড়তে পারে।
ম্যারিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির আরেক দল গবেষক পোকামাকড়ের চোখের ওপর ভিত্তি করে ড্রোনের সেন্সর তৈরি করেছেন। আরকেটি দল, ড্রোনের সাথে এমন একটি ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ যুক্ত করেছেন, যার সাহায্যে, পাখি যেভাবে শিকার ধরার সময় কোনো কিছু ছো মেরে নিয়ে যায়, সেভাবে তুলে নিতে পারে।
[b]ঢাকা, ২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
নতুন ড্রোন প্রযুক্তি
প্রকৃতি থেকেই নতুন নতুন ড্রোন প্রযুক্তির ধারণা পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। পাখি, বাদুড় আর পোকামাকড় থেকে শিখছেন উড্ডয়নের নতুন সব কৌশল। ড্রোনের কথাতো আমরা সবাই জানি। এটা একটি বিমানের মতো। সহজ কথায় ড্রোন হচ্ছে উড়ন্ত একটা রোবট।





