তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের (আইসিটি) আয়োজনে টানা দ্বিতীয় বারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় হ্যাকাথন-২০১৬’। প্রোগ্রামারদের নিয়ে এই আয়োজনে সহযোগিতা করবে অন্যতম মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংক।

সোমবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (প্রশিক্ষণরত) মোঃ আবু নাছের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৬ ও ৭ এপ্রিল মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ (পিএসসি) কনভেনশন হলে জাতীয় সমস্যার প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধানের জন্য প্রোগ্রামারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় হ্যাকাথন-২০১৬। প্রোগ্রামারদের নিয়ে দেশের সব থেকে বড় এই আয়োজনে সহযোগিতা করবে অন্যতম মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংক। মূল হ্যাকাথন অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা ছাড়াও বিজয়ীদের জন্য নগদ অর্থ পুরস্কার, বিভিন্ন ডিভাইস ও হ্যাকাথন চলাকালীন নানা রকম পুরস্কার দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রণোদনা প্রদান ও উৎসাহিত করবে বাংলালিংক।

হ্যাকাথন আয়োজনকে আরো জমকালো করার জন্য বাংলালিংক মূল হ্যাকাথন ইভেন্টে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা ধরণের প্রচারণামূলক আয়োজন করবে।

জাতীয় হ্যাকাথন আয়োজন প্রসঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে দেশের তরুণ সমাজ। তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সরকার এমডিজির মতো এসডিডিজি বাস্তবায়নেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করতে চায়। এই আয়োজন সেই লক্ষ্য ত্বরান্বিত করবে। এজন্য আমরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় হ্যাকাথনের আয়োজন করেছি। আশা করছি এই আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের কাছ থেকে প্রাপ্ত আইডিয়াগুলো আমাদের নানা ধরণের জাতীয় সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

জাতীয় হ্যাকাথন ২০১৬ আয়োজনে বাংলালিংক সহযোগী হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। বাংলালিংক-এর এমডি এবং সিইও এরিক অস বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় অব্যাহত সহযোগিতা প্রদানের যে অঙ্গীকার আমাদের, তারই অংশ হিসেবে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন পূরণে ও মেধাবীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত গঠনের লক্ষ্যে বাংলালিংক এই মহৎ উদ্যোগের গর্বিত অংশীদার হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, দেশের সব খাতে ডিজিটালইজেশনের জন্য এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরণের আয়োজনের ফলে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই ডিজিটাল জাতিতে পরিণত হওয়ার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।’

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা (এসডিজি)- এর নির্বাচিত ১০টি লক্ষ্য অর্জনের জন্য আয়োজিত হচ্ছে এবারের জাতীয় হ্যাকাথন। সারা দেশের সেরা ডেভেলপার, ইউএক্স ডিজাইনার, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার, সফটওয়ার নির্মাতারা একত্রিত হবেন বছরের বড় এই কোডিং ফেস্টিভ্যালে। এসডিজির ১০টি লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে সব প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান, তা প্রযুক্তি দিয়ে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেজন্য তরুণ প্রযুক্তিবিদরা একটানা ৩৬ ঘণ্টা কাজের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্ভাবনে অংশ নেবেন। সেরা উদ্ভাবনগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য আইসিটি বিভাগ ভবিষ্যতে সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করবে।

ইতিমধ্যে ৫৫৩টি দলের ৩ হাজারেরও বেশী আগ্রহী এই হ্যাকাথনে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছে। এদের মধ্যে নির্বাচিত ২৫০টি দল চূড়ান্তভাবে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সহায়তা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ১০ টি মন্ত্রণালয়ের ৪৪ জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে জাতীয় হ্যাকাথনের ডোমেইন এক্সপার্ট দল ও ৯০ জনের টেক-মেন্টর দল প্রস্তুত থাকবে।

এম আর