রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলে যখন প্রথম একটি হেলিকপ্টার থেকে বিশালাকৃতি এ গর্তের দেখা পাওয়া যায়, তখন একে পৃথিবী ধ্বংসের সূচনা বলেই মনে করছিলেন অনেকে। এরপর অবশ্য এ ঘটনার নানা কারণ অনুমান করতে শুরু করেন বিশেষজ্ঞরা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
অনেকেই বলছিলেন এ ঘটনা ঘটতে পারে উল্কাপাতের ফলে। আবার ভূগর্ভের প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের কথাও বলছিলেন অনেকে। তবে সম্প্রতি এর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে সে স্থানে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
গত ১৬ জুলাই বিজ্ঞানীরা দুর্গম সে স্থানে পৌঁছান। এরপর শুরু হয় অনুসন্ধান কাজ।
সাব-আর্কটিক সায়েন্টিফিক রিসার্চ সেন্টারের গবেষক অ্যানা কোরচাতোভা মনে করছেন, ভূগর্ভস্থ পানি, লবণ ও গ্যাসের মিশ্রণের ফলে কোনো এক বিস্ফোরণ থেকে গর্তটির সৃষ্টি হতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় এমনটা ঘটেছে।
এক হাজার বছর আগে ওই অঞ্চলটি সমুদ্রের নিচে ছিল। এটি মূলত পিঙ্গোপ্রবণ এলাকা। পিঙ্গো হলো মেরু এবং এর কাছাকাছি অঞ্চলে পাওয়া এক ধরনের বরফের স্তূপ, যা মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকে। পিঙ্গোর আকৃতি বেশি বড় হলে তা গলে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হওয়া সম্ভব।

গবেষক কোরচাতোভার মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার মাটির নিচের বরফও গলে যাচ্ছে এবং গ্যাস বের হয়ে শ্যাম্পেনের বোতল খোলার মতো প্রভাব তৈরি করছে।
অন্য আরেকটি কারণ হতে পারে ভূগর্ভে সঞ্চিত গ্যাস। এ গ্যাসগুলো হঠাৎ করে কোনো রাস্তা পেয়ে বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়ে যাওয়ার সময় এ গর্তের সৃষ্টি।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এ গর্তের কারণ ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বের হওয়ার ফলে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ এখানে ভেতর থেকে পদার্থ বের হওয়ার আলামত রয়েছে। আর এর কারণ হিসেবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন তারা। তবে এতে অগ্নিকাণ্ডজনিত কোনো বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
ঢাকা, ২৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি,কম) // জেআই





